a
ফাইল ছবি
রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে টিকে থাকতে ইউক্রেনকে অস্ত্র সহায়তা দিয়ে সহযোগিতা করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্ররা। এর মধ্যে জার্মানি অন্যতম।
এবার প্রকাশ্যে এল দেশটির ভেতরের খবর। ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহ করতে গিয়ে এখন নিজেই সংকটে পড়েছে জার্মানি।
জানা গেছে, এখন জার্মানির কাছে আর মাত্র প্রায় ২০ হাজার অতি শক্তিশালী বিস্ফোরক আর্টিলারি শেল অবশিষ্ট আছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের গোপন নথির বরাত দিয়ে এই তথ্য সামনে এনেছে জার্মান সাময়িকী ডের স্পিগেল।
গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, অতি শক্তিশালী বিস্ফোরক আর্টিলারি শেল জরুরি ভিত্তিতে ক্রয়ের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি বাজেট কমিটিকে বোঝানোর জন্য ওই নথি প্রস্তুত করা হয়েছে।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্স বলছে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে সামরিক আগ্রাসন শুরু করে রাশিয়া। আর এরপর যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি জার্মানির মতো অন্যান্য মার্কিন মিত্ররা হাউইৎজারের ব্যবহারের জন্য ১৫৫ এম আর্টিলারি রাউন্ড ইউক্রেনকে ব্যাপকভাবে সরবরাহ করে চলেছে। আর এতেই এসব দেশের নিজস্ব প্রতিরক্ষার জন্য গোলাবারুদের মজুদ নিচে নামছে।
ডের স্পিগেল লিখেছে, জার্মানির সামরিক বাহিনীকে ২০৩১ সালের মধ্যে প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার আর্টিলারি শেলের মজুদ প্রস্তুত রাখতে হবে। মূলত সামরিক জোট ন্যাটোর লক্ষ্যমাত্রা মেনেই এটা করতে হবে যাতে ব্যাপক যুদ্ধ বাঁধলেও ৩০ দিন লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মতো যথেষ্ট আর্টিলারি হাতে থাকে। জার্মান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অবশ্য তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি।
আগামী মাসগুলোতে কামান এবং ট্যাংক গোলাবারুদের জরুরি ক্রয়ের জন্য নয়টি চুক্তি বাজেট কমিটির সামনে উপস্থাপন করবে জার্মান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, লিখেছে ডের স্পিগেল। সূত্র: রয়টার্স
সংগৃহীত ছবি
চীন আশা করে আফগানিস্তানে যুদ্ধের অবসান এবং দেশটির পুনর্গঠনে তালেবান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সেই সাথে চীনের অভ্যন্তরে ‘মুসলিম বিদ্রোহ’ দমনে তালেবানের সহায়তাও চেয়েছে বেইজিং।
বুধবার তালেবানের ৯ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল চীন সফরে গেলে দুপক্ষের মধ্যে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।
সংগঠনের উপনেতা মোল্লা বারাদার আকুন্দের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি দুই দিনের এ সফরের প্রথম দিনে বুধবার তিয়ানজিং শহরে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই’র সাথে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় শান্তি আলোচনা ও নিরাপত্তা বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা হয় বলে একজন তালেবান মুখপাত্র জানিয়েছেন।
বৈঠকের পর চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘ওয়াং বলেছেন, তারা আশা করছেন আফগানিস্তানের শান্তিপূর্ণ পুনর্মিলন ও পুনর্গঠনে তালেবান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।’
চীনের পশ্চিমাঞ্চল জিনজিয়াং প্রদেশে ‘পূর্ব তুর্কিস্তান ইসলামিক আন্দোলন’ নামে একটি ইসলামিক সংগঠন সক্রিয় রয়েছে এবং তারা চীনের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ‘সরাসরি হুমকি’ বলে উল্লেখ করে ওয়াং আরো বলেছেন, তিনি আশা করেন তালেবান ওই সংগঠনটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে সহযোগিতা করবে।
এদিকে, তালেবান মুখপাত্র মোহাম্মদ নাঈম এক টুইটে জানান, ‘রাজনৈতিক, অর্থনীতি ও উভয় দেশের নিরাপত্তা এবং আফগানিস্তানের বর্তমান অবস্থা ও শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।’
মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর থেকে আফগানিস্তানে সরকার ও তালেবান পক্ষের মধ্যে সাংঘর্ষিক অবস্থা বিরাজ করছে। ইতোমধ্যে অনেক জেলা ও অনেকগুলো সীমান্ত ক্রসিং দখলে নিয়ে নিয়েছে তালেবান।
এদিকে আফগানিস্তানের সাথে সীমান্ত থাকায় জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়ে ‘শঙ্কিত’ চীন। উইঘুর মুসলিমদের যে সংগঠনটিকে চীন তাদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে করে, চীন মনে করে তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় এলে তারা শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে।
তবে আফগান মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রতিনিধিদল চীনকে আশ্বস্ত করেছে যে তালেবান কাউকে চীনের বিরুদ্ধে আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করতে দেবে না।
‘চীনও প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে যে আফগান জনগণের প্রতি তাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। তারাও জানিয়েছে যে, আফগান বিষয়ে তারা কোনো হস্তক্ষেপ করবে না, তবে সমস্যা সমাধান ও শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সহায়তা করবে,’ বলেন আফগান মুখপাত্র। সূত্র: রয়টার্স
ফাইল ছবি
শরীয়তপুর সদর উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মো. দাদন খলিফা (৩০) নামে এক যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১৫ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার গয়ঘর খলিফাকান্দি (নুরুল হক খলিফার বাড়ির মসজিদের সামনে) এ হত্যার ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহতাবস্থায় তাকে ঢাকা নেয়ার পথে মৃত্যু হয়। নিহত মো. দাদন খলিফা উপজেলার শৌলপাড়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের গয়ঘর গ্রামের সেকেন্দার খলিফার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, পূর্ব শত্রুতার জেরে গয়ঘর গ্রামের ইদ্রিস খার সাথে নিহত দাদনের বাবা সেকেন্দার খলিফার দন্দ্ব চলে আসছিল। তারই সূত্রধরে গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে গয়ঘর খলিফাকান্দি নুরুল হক খলিফার বাড়ির মসজিদে নামাজ পড়ে দাদন বের হলে আগে থেকেই ওঁৎ পেতে থাকা ইদ্রিস খা, এসকান্দার সরদারসহ ১০/১৫ জন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে দাদনকে এলোপাথারীভাবে কোপাতে থাকে।
স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়। দাদনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দাদনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। ঢাকা নেয়ার পথে পোস্তগোলা এলাকায় দাদনের মৃত্যু হয়।
দাদন খলিফার বাবা সেকেন্দার খলিফা বলেন, ইদ্রিস খার নের্তৃত্বে আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। আমি হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।
শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আক্তার হোসেন জানান, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। হত্যার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।