a
ফাইল ছবি
রাশিয়ার বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পোল্যান্ড ইউক্রেনকে আর কোনো অস্ত্র সরবরাহ করবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী মাতেউস মোরাভিয়েস্কি।
শস্য আমদানি ঘিরে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার পর এই ঘোষণা দিল পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী।
টানা দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে রাশিয়া। রুশ এই আগ্রাসন মোকাবিলায় কিয়েভকে অস্ত্র সরবরাহ করে আসছে আমেরিকা ও ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলো। এমনকি প্রতিবেশী পোল্যান্ডও ছিল ইউক্রেনকে অস্ত্র সরকরাহকারীর অন্যতম দেশ।
তবে ইউক্রেনের কট্টর মিত্র বলে পরিচিত এই দেশটি এখন থেকে আর কিয়েভকে অস্ত্র সরবরাহ না করার ঘোষণা দিয়েছে। মূলত ইউক্রেনীয় শস্য আমদানি করা বা না করা নিয়ে বিতর্কের জেরে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি।
গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন- কিয়েভকে অস্ত্র দেওয়ার পরিবর্তে আরও আধুনিক অস্ত্র দিয়ে নিজেকে সজ্জিত করার দিকে মনোনিবেশ করবে তার দেশ।
এর আগে জাতিসংঘে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির করা মন্তব্যের জন্য গত মঙ্গলবার ইউক্রেনীয় রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছিল পোল্যান্ড।
কিয়েভ থেকে খাদ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য প্রতিবেশী তিনটি দেশের বিরুদ্ধে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) কাছে মামলা দায়ের করে ইউক্রেন। ওই তিনটি দেশ হচ্ছে- স্লোভাকিয়া, পোল্যান্ড এবং হাঙ্গেরি।
রুশ আগ্রসনের শিকার কিয়েভের অভিযোগ, ইউক্রেনের ইইউ প্রতিবেশীদের এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতার লঙ্ঘন। অন্যদিকে আমদানি বন্ধ রাখা এসব দেশ বলছে, সস্তায় শস্য আমদানির প্রভাব থেকে নিজেদের কৃষকদের রক্ষা করতে এই নিষেধাজ্ঞার প্রয়োজন ছিল।
মূলত গত বছর ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণ মাত্রায় আগ্রাসনের পর থেকে কৃষ্ণসাগরে জাহাজ চলাচলের প্রধান লেন বন্ধ হয়ে যায় এবং এর জেরে স্থলপথে বিকল্প রুট খুঁজতে বাধ্য হয় ইউক্রেন। এর ফলে মধ্য ইউরোপে প্রচুর পরিমাণে শস্য ঢুকতে থাকে।
আর এর জেরে সেসব দেশের কৃষকরা তখন থেকেই প্রতিবাদ-সমাবেশ করে আসছেন। তাদের অভিযোগ, ইউক্রেনীয় শস্যের চালান তাদের ক্ষতি করছে এবং স্থানীয় বাজারকে ক্ষতির মুখে ফেলে দিয়েছে।
আর সেই চাপের ফলে ২৭-সদস্যের ইইউ ব্লক চলতি বছরের শুরুতে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড, স্লোভাকিয়া ও সেই সাথে বুলগেরিয়া এবং রোমানিয়াতে ইউক্রেনের শস্য আমদানির ওপর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।
সময়সীমার শেষ হওয়ার দিনে ইইউয়ের নির্বাহী সংস্থা হিসেবে ইউরোপীয় কমিশন এই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আর না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু বুদাপেস্ট, ওয়ারশো এবং ব্রাতিস্লাভার সরকার ইউরোপীয় কমিশনের এই পদক্ষেপ মানতে অস্বীকার করে এবং শস্য আমদানির বিষয়ে তাদের নিজস্ব বিধিনিষেধ ঘোষণা করে।
কারণ এসব দেশের আশঙ্কা, ইউক্রেনীয় শস্য তাদের দেশের কৃষকদের স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত শস্যের দাম কমিয়ে দিচ্ছে। যদিও ইউরোপীয় কমিশন বারবার বলেছে, ব্লকের মেনে চলা বাণিজ্য নীতির বাইরে ইইউ সদস্যরা পৃথকভাবে কোনও পদক্ষেপ বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে না। সূত্র: বিবিসি, সিএনএন, ডয়েচে ভেলে।
ফাইল ছবি
অধিকৃত ফিলিস্তিনের পবিত্র জেরুজালেম আল-কুদস শহরের পশ্চিমে বিশাল জঙ্গলে দাবানলের ভয়াবহ তাণ্ডব থামানোর চেষ্টা করছে ইসরায়েলের দমকল কর্মীরা।
আগুন নেভানোর জন্য ইসরায়েল ওই এলাকায় অন্তত ১১০টি অগ্নিনির্বাপক দল পাঠিয়েছে। পাশাপাশি আটটি বিমান আগুন নেভানোর কাজে ব্যস্ত রয়েছে।
রবিবার এই অগ্নিকাণ্ড শুরু হয় এবং তিনদিনের প্রচেষ্টায় ইসরায়েল এখনও আগুন নেভাতে সক্ষম হয়নি। দাবানলে এরইমধ্যে জঙ্গলের বিশাল এলাকা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে এবং বেশ কয়েকটি কমিউনিটি মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
১৯৪৮ সালে পাশ্চাত্যের ষড়যন্ত্রে ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার পর এই পর্যন্ত যে কয়টি বড় দাবানলের ঘটনা ঘটেছে এটি তার অন্যতম প্রধান। আল-জাজিরা টেলিভিশন চ্যানেলের খবর বলা হয়েছে, প্রায় ২০ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে।
সোমবার আগুন নেভানোর জন্য সহযোগিতা চেয়ে গ্রিসকে অনুরোধ করেছে ইসরায়েল। এছাড়া, ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়ায়ির লাপিদ জানিয়েছেন, তিনি সম্ভাব্য সহযোগিতার জন্য সাইপ্রাস, ইতালি এবং ফ্রান্সকে অনুরোধ করেছেন।
ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিওর হাইয়াত জানিয়েছেন, গ্রিস এবং সাইপ্রাস দমকল কর্মী পাঠাতে রাজি হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ড থেকে সৃষ্ট কালো ধোঁয়ায় জেরুজালেম শহর ছেয়ে গেছে। ইসরায়েলের অগ্নিকাণ্ড এবং উদ্ধার বিভাগের প্রধান দেদি সিমচি জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডের কারণ জানতে তদন্তকারীরা কাজ করছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, মানুষের কর্মকাণ্ডের কারণে এই অগ্নিকাণ্ড শুরু হয়েছে।
এরইমধ্যে ওই এলাকার বহু লোকজনকে তাদের ঘরবাড়ি থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। চলতি গ্রীষ্ম মৌসুমে ইসরায়েলসহ ভূমধ্যসাগরের উপকূলবর্তী দেশ আলজেরিয়া, সাইপ্রাস এবং তুরস্কে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়ে।
সংগৃহীত ছবি
চীনের প্রযুক্তির হুমকি ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের সক্ষমতা বাড়াতে একটি বিল অনুমোদন দিয়েছে মার্কিন সিনেট। গতকাল মঙ্গলবার ৬৮-৩২ ভোটে কংগ্রেসের উচ্চকক্ষে বিলটি পাস হয়। খবর রয়টার্স।
মার্কিন সিনেটে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে নানা বিষয়ে বিরোধ থাকলেও চীনের বিরুদ্ধে ‘হার্ড লাইন’ নেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষই একমত।
বিলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি ও গবেষণা জোরদার করার জন্য প্রায় ১৯০ বিলিয়ন ডলার রাখা হয়েছে। সেমিকন্ডাক্টর ও টেলিযোগাযোগ সরঞ্জাম উৎপাদন ও গবেষণায় খরচ করতে অতিরিক্ত আরও ৫৪ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দিতেও এতে বলা হয়েছে।
হোয়াইট হাউসে পাঠানোর আগে বিলটিকে এখন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ, হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভে পাস হতে হবে। অনুমোদনের পর, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন স্বাক্ষর করলে এটি আইনে পরিণত হবে।
বিলে চীনের ‘প্রযুক্তি হুমকি’ মোকাবেলায় যেসব ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে তার মধ্যে আছে, সরকারি ডিভাইসগুলোতে টিকটক অ্যাপ ডাউনলোড নিষিদ্ধ করা, চীন সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়া কোম্পানির তৈরি বানানো ড্রোন ক্রয় না করা।