a
ছবি: সংগৃহীত
পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকা দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগের তদন্ত করতে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আবেদন করেছেন সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।
একজন নাগরিক হিসেবে আবেদন করেছেন জানিয়ে ব্যারিস্টার সুমন বলেন, সবাইকে আল্লাহ বাঁচাইছে, বেনজীর সাহেব বেশিদিন সময় পাননি। আর কিছুদিন সময় পেলে গোপালগঞ্জ কিনে নিতেন উনি। পুলিশে যারা অসৎ হবেন বেনজীর সাহেবকে আদর্শ ধরে নেবেন।
রোববার (২১ এপ্রিল) দুপুরে সেগুনবাগিচায় দুদক কার্যালয়ে এই আবেদন জমা দেন তিনি।
দুদক চেয়ারম্যান বরাবর করা আবেদনে বলা হয়, গত ৩১ মার্চ একটি পত্রিকা ঢাকায় ‘বেনজীরের ঘরে আলাদীনের চেরাগ’ শীর্ষক সংবাদ প্রকাশ করে। ৩৪ বছর পর ২০২২ সালের ৩০ অক্টোবর বেনজীর আহমেদ অবসরে যান। অবসরের পর বেনজীর আহমেদ চাকরিকালীন স্ত্রী ও মেয়ের নামে অনেক সম্পদ গড়েছেন। যা তার জ্ঞাত আয়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
আবেদনে আরও বলা হয়, বেনজীর ও তার স্ত্রীর সম্পদের পরিমাণ এবং কন্যা সন্তান তাদের বৈধ আয়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ আছে বেনজীর তার পদের অপব্যবহার করে উল্লিখিত সম্পত্তি অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে অর্জন করেছেন। আবেদনে তিনি বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী জিশান মির্জা, কন্যা ফারহিন রিশতা বিন্তে বেনজীর ও তাহসিন রাইসা বিনতে বেনজীরের অবৈধ সম্পদ বিষয়ে তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে অনুরোধ করছি।
আবেদন জমা শেষে সাংবাদিকদের ব্যারিস্টার সুমন বলেন, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে যে রিপোর্ট আছে, প্রায় হাজার কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের। উনার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ আসছে পত্রিকায়। এটার ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো ইনকোয়ারির ব্যবস্থা না দেখে আমি দুদকে এসেছি।
তিনি বলেন, আমি বলেছি এটা ইনকোয়ারি করা দরকার। কারণ যদি সাবেক আইজিপির এতো সম্পদ থাকে, তাহলে পুলিশ ফোর্সের মধ্যে যারা সৎ অফিসার আছেন তারা খুব বেশি ফ্রাস্ট্রেটেড হবেন। সৎ নাগরিকদের ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়বে। এটা যদি সত্য হয়, যারা অসৎ আছে তারা প্রতিযোগিতায় নামবে আমরা সবাই বেনজির হতে চাই। এর জন্য মনে হয়েছে এটা দেশের জন্য ভয়ানক বিষয়। এটা ইনকোয়ারি হওয়া দরকার। দুদক আমলে না নিলে কী করবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, পরিষ্কার হাইকোর্ট আছে।
দুদক অনুসন্ধান শুরু না করলে হাইকোর্ট যাবেন বলে জানান ব্যারিস্টার সুমন।
এর আগে শনিবার (২০ এপ্রিল) পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ‘আমার কিছু কথা’ শিরোনামে একটি ভিডিও আপলোড করেন। সেখানে তিনি অবৈধ সম্পদ নিয়ে যেসব অভিযোগ উঠেছে, তার দালিলিক প্রমাণ দিতে পারলে প্রমাণদাতাকে সেই সম্পদ বিনামূল্যে দিয়ে দেওয়ার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন। সূত্র: ইত্তেফাক
ছবি সংগৃহীত
নিউজ ডেস্ক: বিচারালয় সমাজে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রধান মাধ্যম হলেও এটি নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট সমাজের আইন, প্রথা এবং ঐতিহ্যের উপর। এছাড়াও, আইনজীবী ও বিচারকদের ভূমিকা বিচার ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ন্যায়বিচারের অন্যতম মূল ভিত্তি হলো আইনের শাসন।
বাংলাদেশে আদালত এবং বিচার ব্যবস্থার বিবর্তনের দিকে নজর দিলে দেখা যায়, দিল্লি সুলতানাত ও মুঘল আমলে বিচার ব্যবস্থার অস্তিত্ব ছিল। উভয় আমলে মুসলিম শাসকরা ন্যায়বিচারের জন্য বিখ্যাত ছিলেন। তবে আজকের মতো পেশাদার আইনজীবী সেই সময়ে ছিল না।
আমাদের বর্তমান বিচার ব্যবস্থা মূলত ব্রিটিশ শাসনের অবদান। ব্রিটিশদের থেকে আমরা দাপ্তরিকভাবে তাদের আইনি কাঠামো উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছি। সিভিল প্রসিডিউর কোড (CPC) এবং ক্রিমিনাল প্রসিডিউর কোড (CRPC) উভয়ই ব্রিটিশ প্রশাসক স্যার ম্যাকলে-এর একক অবদান, যিনি নিজে আইনজীবী ছিলেন না, বরং একজন ইতিহাসবিদ ছিলেন। ব্রিটিশরাই প্রথম আমাদের এখানে পেশাদার আইনজীবীদের প্রতিষ্ঠান চালু করেন।
১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের পর ভারত ও পাকিস্তান উভয় দেশই ব্রিটিশ ভারতের আইনি ও বিচার ব্যবস্থাকে গ্রহণ করে। উভয় দেশই তাদের নিজ নিজ আইনি কাঠামোতে বড় কোনো পরিবর্তন আনার প্রয়োজন অনুভব করেনি। পাকিস্তান ও ভারত উভয়ই ব্রিটিশদের প্রতিষ্ঠিত আইনের শাসন অনুসরণ করার চেষ্টা করেছে।
কিন্তু ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ পুরোনো আইনি কাঠামো থেকে সরে এসে সরকার-নির্ভর আদালত পরিচালনার চেষ্টা করে। প্রথমবারের মতো আইনের শাসন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং আদালতগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হতে শুরু করে।
জিয়াউর রহমানের শাসনামলে এই পরিস্থিতি পরিবর্তনের চেষ্টা হয়। তিনি আদালতগুলোকে নির্বাহী বিভাগের নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত করার উদ্যোগ নেন এবং আইনের শাসন ফিরিয়ে আনার সর্বাত্মক চেষ্টা চালান। তার পরবর্তী শাসক এরশাদও সেই কাঠামো অনুসরণ করেন।
তবে এরশাদের পতনের পর থেকে বিচার ব্যবস্থায় অবনতি শুরু হয়, যদিও তা সাধারণ মানুষের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলেনি। কিন্তু পরিস্থিতি আরও খারাপ হয় ফ্যাসিস্ট হাসিনা শাসনামলে।
আদালতগুলোকে আওয়ামী আদালত হিসেবে ব্যবহৃত হতে দেখা যায়। এ সময় বিচার ব্যবস্থা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয় এবং আদালতগুলো শাসকগোষ্ঠীর ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার হাতিয়ারে পরিণত হয়। জনগণ এ সময় চূড়ান্ত ভোগান্তির শিকার হয়।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের পর বিচার ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তনের আশা দেখা দিয়েছে। সর্বোচ্চ আদালতে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে, তবে নিম্ন আদালত এখনো আওয়ামীপন্থী বিচারকদের প্রভাবমুক্ত নয়। নিম্ন আদালতে দলীয়করণ থেকে মুক্তি পেতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন।
আমরা আশা করি, শীঘ্রই আইনের শাসন পুরোপুরি ফিরে আসবে এবং বিচার ব্যবস্থা তার পবিত্র দায়িত্ব পালনে সক্ষম হবে এবং সামনের দিনগুলোতে আদালতগুলোতে একটি উজ্জ্বল দিন দেখা যাবে।
সম্পাদক, সামরিক ইতিহাস জার্নাল এবং আইন ও ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক
ফাইল ছবি
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী থানার এসআই মো. রেজাউল করিমের ড্রয়ার থেকে ঘুষের আড়াই লাখ টাকা বের করেন সহকারী পুলিশ সুপার (সোনাইমুড়ী সার্কেল) সাইফুল ইসলাম। এ ঘটনার পর এসআই রেজাউল করিমকে প্রত্যাহার করে নোয়াখালী পুলিশ লাইনে পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় নোয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, অভিযুক্ত এসআই মো. রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্তের স্বার্থে তাকে নোয়াখালী পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
ইতিপূর্বে, গত মঙ্গলবার রাতে নোয়াখালীর পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেনের নির্দেশে অভিযুক্ত রেজাউল হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগে জানা যায়, গত মঙ্গলবার রাতে এসআই রেজাউল বেগমগঞ্জের চৌমুহনী শহরের একজন পল্লী বিদ্যুৎ ডিলারের একটি মালবাহী ট্রাক আটক করেন। গাড়িতে থাকা মালামালগুলো অবৈধ বলে ৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করলে, একপর্যায়ে সেই ডিলারের নিকট থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জোরপূর্বক আদায় করেন।
পরে তিনি ওই ডিলারের কাছ থেকে আরও টাকা আদায়ের ফন্দি ফিকির করেন। এদিকে ডিলার ঘুষের টাকা প্রদানের সাথে সাথেই বিষয়টি নোয়াখালীর পুলিশ সুপারকে জানান।
ভুক্তভোগী পুলিশ সুপারকে আরও জানান যে, দ্রুত অভিযুক্ত এসআইয়ের অফিসের ড্রয়ার তল্লাশি করলে তার দেওয়া ঘুষের টাকা পাওয়া যাবে। কথানুযায়ী পুলিশ সুপারের নির্দেশে নোয়াখালী সহকারী পুলিশ সুপার (সোনাইমুড়ী সার্কেল) সাইফুল ইসলাম সোনাইমুড়ী থানায় এসে এসআই রেজাউলের টেবিলের ড্রয়ার খুলে ঘুষের টাকা পেয়ে ওই টাকা জব্দ করে পুরো ঘটনা ভিডিও ধারণ করে নেন। এ সময় এসআই রেজাউল করিম কোনো সন্তোষজনক জবাব দিতে না পারায় তাকে তৎক্ষনাত প্রত্যাহার করা হয়।