a
সংগৃহীত ছবি
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের স্থানীয় এক সাংবাদিককে মারধর ও বাড়িঘরে ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে হেনস্তা করার অভিযোগে। ওই সাংবাদিকের নাম হাবিবুর রহমান। তিনি চ্যানেল এস নামের একটি বাংলা টেলিভিশনের নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি।
আহত সাংবাদিক হাবিবুর রহমান বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছেন। এ ঘটনায় তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
হাবিবুর রহমান সংবাদ মাধ্যমকে জানান, গত শনিবার (৩ এপ্রিল) সোনারগাঁয়ের রয়েল রিসোর্টে হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক ‘অবরুদ্ধ হওয়ার’ খবর পেয়ে অন্য গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে তিনিও সেখানে গিয়েছিলেন। গত সোমবার (৫ এপ্রিল) রাতে উপজেলার সনমান্দী ইউনিয়নের ভাটিরচর গ্রামের বাড়িতে তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন।
হাবিবুর রহমান বলেন, এ সময় হেফাজতে ইসলামের স্থানীয় একদল যুবক লাঠি হাতে নিয়ে মিছিল করে তার বাড়িতে প্রবেশ করে গালাগাল শুরু করেন। তিনি ঘুম থেকে জেগে উঠলে তারা মামুনুল হককে ‘হেনস্তা’ করার অভিযোগ এনে ভিডিও রেকর্ড করে মামুনুল হকের কাছে ক্ষমা চাইতে বলে।
ফাইল ছবি
সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজামের পদত্যাগ বিষয়ে সংগঠনের সভাপতি ও ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম গণমাধ্যমে বক্তব্য পাঠিয়েছেন।
অপরদিকে, নিজের পদত্যাগের কারণ জানিয়ে আরেকটি বক্তব্য দিয়েছেন নঈম নিজামও। বুধবার তারা পৃথকভাবে গণমাধ্যমে বক্তব্য পাঠান। নিচে দু’জনের বক্তব্য হুবহু তুলে ধরা হলো।
মাহফুজ আনাম তার বক্তব্যে বলেন, 'সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে নঈম নিজামের পদত্যাগের সংবাদে আমি বিস্মিত ও মর্মাহত। মঙ্গলবার রাতে তিনি নিউইয়র্ক থেকে টেলিফোনে আমাকে বিষয়টি জানিয়েছিলেন। কিন্তু তার পদত্যাগপত্র আমি এখনও পাইনি। সম্পাদক পরিষদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে এ বিষয়ে পরিষদের অবস্থান জানানো হবে। উল্লেখ্য, সম্পাদক পরিষদের যে কোনো সিদ্ধান্ত সদস্যদের মধ্যে আলোচনা ও ঐকমত্যের ভিত্তিতেই নেওয়া হয়। কখনোই এর ব্যত্যয় ঘটেনি। আমি জোর দিয়ে বলতে চাই, নঈম নিজামের সঙ্গে আমার কর্মক্ষেত্রের সম্পর্ক অত্যন্ত চমৎকার এবং পরিষদ পরিচালনার বিষয়ে তার সঙ্গে আমার কখনোই কোনো মতানৈক্য হয়নি।'
অন্যদিকে, নঈম নিজাম তার বক্তব্যে বলেন, 'আমরা পরস্পর ঐক্য ধরে রেখে একটি ইতিবাচক অবস্থান নিয়ে কাজ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু কিছু কঠিন বাস্তবতা হলো, সরকারের বিরুদ্ধে মাঝে মাঝে বিবৃতি প্রদান ছাড়া সম্পাদক পরিষদ আর কোনো কিছু নিয়ে কাজ করছে না। সম্পাদকদের একটি প্রতিষ্ঠান শুধু সরকারবিরোধী ভাব নিয়ে চলতে পারে না। পরিষদ পেশার মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারছে না। শুধু সভাপতির ব্যক্তিগত ইচ্ছায় প্রতিষ্ঠান চলছে। প্রথম আলো, ডেইলি স্টারের স্বার্থ রক্ষা সম্পাদক পরিষদের কাজ হতে পারে না। এসব তৎপরতা মিডিয়ার জন্য মঙ্গল বয়ে আনতে পারে না। কোনো অপরাধ প্রমাণের আগে কোনো মিডিয়া মালিকের বিরুদ্ধে সংবাদ পরিবেশন কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। এ ব্যাপারে বারবার বলার পরও তিনি নিজের অবস্থান থেকে সরেননি বিধায় সম্পাদক পরিষদ থেকে আমার সরে দাঁড়ানো ছাড়া বিকল্প ছিল না।'
সূত্র: সমকাল
ছবি সংগৃহীত: মেট্টোরেল, বাংলাদেশ
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন মেট্টোরেল চালু হতে এক বছর সময় লাগবে। কারন হিসেবে বর্ননা করেন দূর্বত্তরা আগুন দিয়ে এটার যে ধ্বংসলীলা চালিয়েছে তা মেরামত করতে এক বছর সময় লাগবে। অথচ ৩৭ দিন বন্ধ থাকার পর সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস রোববার (২৫ আগস্ট) থেকে যাত্রী সেবা দেওয়া শুরু করেছে মেট্রোরেল। সকাল ৭টা ১০ মিনিট এবং ৭টা ২০ মিনিটে উত্তরা উত্তর মেট্রোরেল স্টেশন থেকে দুটি ট্রেন মতিঝিলের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।
এর আগে শনিবার (২৪ আগস্ট) ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের (লাইন-৬) অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক মো. জাকারিয়া জানিয়েছিলেন, গত বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত মেট্রোরেলের ট্রায়াল (পরীক্ষামূলকভাবে চালানো) হয়েছে। এতে রোববার মেট্রোরেল চালু করা সম্ভব হবে।
কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় গত ১৮ জুলাই মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে পুলিশ বক্সে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এতে ওইদিন বিকাল পাঁচটায় মেট্রোরেলের চলাচল বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। এর পরদিন মিরপুর-১০ ও কাজীপাড়া স্টেশনে ভাঙচুর চালায় দুর্বৃত্তরা।
নতুন অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর ১১ আগস্ট উপদেষ্টা পরিষদের এক বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় যে, ১৭ আগস্ট থেকে মেট্রোরেল চালু হবে। উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল স্বাভাবিক নিয়মে চলাচল করবে। তবে মিরপুর-১০ ও কাজীপাড়া স্টেশনে আপাতত ট্রেন থামবে না। কারণ, কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় এ দুটি স্টেশন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এরপর ১৫ আগস্ট ডিএমটিসিএল সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ১৭ আগস্ট থেকে মেট্রোরেল চালু সম্ভব হচ্ছে না বলে জানানো হয়। এতে বলা হয়, অনিবার্য কারণে প্রয়োজনীয় কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা এখনও শুরু করা সম্ভব হয়নি।
ডিএমটিসিএল সূত্রে সম্প্রতি জানা যায়, মেট্রোরেলের লাইন, কোচ ও সংকেত ব্যবস্থা সবই ঠিক ছিল। এরপরও মেট্রোরেল চালু না হওয়ার কারণ ছিল নিচের দিকের কর্মীদের কর্মবিরতি। বড় কর্মকর্তারা বাড়তি সুবিধা নিচ্ছেন, এমন অভিযোগ এনে কর্মবিরতিতে যান মেট্রোরেলের কর্মচারীরা। এ জন্যই কারিগরি কোনো সমস্যা না থাকার পরও মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ ছিল। পরে কর্মচারীদের সঙ্গে আলোচনার পর তাদের দাবি পূরণের বিষয়ে আশ্বাস দেওয়া হয়।
গত ১৮ আগস্ট সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান সাত দিনের মধ্যে মেট্রোরেল চলাচল শুরুর আশ্বাস দেন। মেট্রোরেলের কর্মচারীরা ২০ আগস্ট থেকে কাজে যোগ দেন। সেই হিসেবে মেট্রোরেল আজ (রোববার) থেকে চালু হলো। সূত্র: ইত্তেফাক