a
ফাইল ছবি
জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারদের (এসপি) সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের বৈঠকে হইচইয়ের ঘটনাকে সামান্য ভুল বোঝাবুঝি বলার চেষ্টা করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল।
মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আহসান হাবিব খান, বেগম রাশেদা সুলতানা ও মো. আলমগীর সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তবে নির্বাচন কমিশনার মো. আনিছুর রহমান আজও নির্বাচন ভবনে যাননি।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, হয়ত সামান্য একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। এটা নিয়ে এত চিন্তা-ভাবনার কোনো কারণ নাই। এটা নিয়ে মন্তব্য করতে চাইনা।
জেলা পরিষদ, গাইবান্ধা-৫ উপনির্বাচন ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাঠের পরিস্থিতি জানতে ডিসি এবং এসপিদের নিয়ে গত শনিবার বৈঠক করে নির্বাচন কমিশন। ওই বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার মো. আনিছুর রহমানের বক্তব্যের একপর্যায়ে হইচই করেন ডিসি-এসপিরা। একপর্যায়ে কমিশনার তার বক্তব্য বন্ধ করে নিজ চেয়ারে গিয়ে বসেন।
এ ঘটনার দুইদিন পর সোমবার সিইসি তার প্রতিক্রিয়া জানান। এ বিষয়ে তিনি বলেন, এগুলো নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে, অনেক কিছু হয়েছে। এগুলো নিয়ে খামাখা এত কথা বলার প্রয়োজন নাই। আপনারা (সাংবাদিক) আগামীর দিকে তাকান। ওখানে কিছু হয় নাই। হয়ত সামান্য একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। এটা নিয়ে এত চিন্তা-ভাবনার কোনো কারণ নাই। এটা নিয়ে মন্তব্য করতে চাচ্ছি না। এটা নিয়ে আপনারাও মাথা ঘামাবেন না। আমরাও মাথা ঘামাতে চাইনা। সূত্র: যুগান্তর
বেগম খালেদা জিয়া
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শরীরে করোনার সংক্রমণ খুবই সামান্য বলে জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক এ জেড এম জাহিদ হোসেন। বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর এভারকেয়ার হসপিটালে খালেদা জিয়ার সিটি স্ক্যান শেষে বাসায় পৌঁছার পর তিনি সাংবাদিকদের এমন তথ্য জানান।
ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, সিটি স্ক্যান রিপোর্ট অনুযায়ী বেগম খালেদা জিয়ার শরীরে করোনার সংক্রমণ খুবই সামান্য। যে কারণে তিনি বাসায় থেকে চিকিৎসা নেবেন। এর আগে করোনায় আক্রান্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে তার সিটিস্ক্যান করানো হয়।
বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ৪০ মিনিটে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার সিটিস্ক্যান শেষে ১০টা ২৪ মিনিটে আবারও বাসায় নেয়া হয়।
বৃহস্পতিবার বিকালে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের বাসভবন ফিরোজায় খালেদা জিয়ার সর্বশেষ শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে এক ব্রিফিংয়ে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক দলের প্রধান মেডিসিন ও বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এফএম সিদ্দিকী জানিয়েছিলেন, খালেদা জিয়ার সিটিস্ক্যান করানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খুব দ্রুত খালেদা জিয়ার সিটিস্ক্যান করানো হবে।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার সকালে জ্বর আসলেও এখন তার শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে। তার ব্লাড রিপোর্ট ভালো। আমরা তার সিটিস্ক্যান করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যে কোনো সময় এ সিটিস্ক্যান করানো হবে। ইতোমধ্যেই আমরা সব প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি।
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবে গত ১০ এপ্রিল তিনি নমুনা দেন। ওই রাতেই ফল পজিটিভ আসে।
পরদিন রোববার বিকেলে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে দলের চেয়ারপারসনের করোনা আক্রান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। খালেদা জিয়া ছাড়াও তার গৃহকর্মী ফাতেমাসহ বাসার মোট ৯ জন সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।
ছবি: মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
বেকারদের জন্য পর্যাপ্ত হোস্টেল তৈরি, ভাতা প্রদান, চাকরির আবেদন ফি বাতিল এবং সহজ শর্তে ঋন প্রদানসহ ৪ দফা দাবিতে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ বেকার সম্প্রদায়। শুক্রবার (২ জুন) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ কর্মসূচির আয়োজন করে বেকারদের এ সংগঠন।
মানববন্ধনে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ বেকার সম্প্রদায়ের নেতাকর্মীরা চার দফা দাবি জানান। তাদের দাবি গুলো হল-
১. ঢাকাসহ প্রত্যেক বিভাগ ও জেলা শহরে পর্যাপ্ত বেকার হোস্টেল করতে হবে এবং প্রত্যেক বেকারকে বেকার ভাতা দিতে হবে।
২. সকল চাকরির আবেদন ফি ও বিশ্ববিদ্যালয় এর আবেদন ফি বাতিল করতে হবে।
৩. ৩য় এবং ৪র্থ শ্রেণির চাকরিতে (১১-২০ গ্রেড) পিএসসি'র আদলে জাতীয় নিয়োগ বোর্ড গঠন করে নিয়োগ দিতে হবে।
৪. বেকারকে উদ্যোক্তা তৈরিতে সহজ শর্তে ঋণ দিতে হবে এবং চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা যৌক্তিকতার ভিত্তিতে বৃদ্ধি করতে হবে।
এসময় ৪ দফা দাবির যৌক্তিকতা বুঝিয়ে বাংলাদেশ বেকার সম্প্রদায় এর সভাপতি মো: আল কাওছার মিয়াজী বলেন, 'ঢাকাসহ প্রত্যেক বিভাগ ও জেলা শহরে বেকারের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো আবাসন সমস্যা। বেকার বা ব্যাচেলরদের বাড়িওয়ালারা বাসা ভাড়া দিতে চায়না, আর দিলেও হাজারো শর্ত জুড়ে দেয় এবং বাসা ভাড়া কয়েকগুন বেশি দিতে হয়। বিশ্বের প্রায় প্রত্যেক দেশে বেকারদের জন্য বেকার হোস্টেল রয়েছে। বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও কলকাতার বেকার হোস্টেলে থাকতেন। তাই বর্তমানে সময়ের প্রয়োজনে বাংলাদেশেও বেকার হোস্টেলের কোন বিকল্প নেই।'
কাওছার মিয়াজী আরো বলেন, 'বেকারদের জন্য বিশ্বের প্রত্যেক দেশে বিশেষ সুযোগ সুবিধা থাকলেও কেবল বাংলাদেশই হচ্ছে একমাত্র ব্যতিক্রম, যেখানে বেকার ভাতা তো দূরের কথা এখানে বেকারদেরকে হেয় করে দেখা হয়। এ কারণেই প্রত্যেক বছর অনেক বেকারকে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে হয়। বাংলাদেশে যদি বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতা, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, বৈশাখী ভাতা ইত্যাদি চালু থাকতে পারে তাহলে বেকার ভাতা কেন নয়? তাই উন্নত বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশেও বেকার ভাতা চালু করতে হবে।'
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মো: সাইফুল আলম সরকার বলেন, 'বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে চাকরিতে আবেদনের কোন ফি নেওয়া হয় না। সেখানে বাংলাদেশ যেন আবেদন ফি নেওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক যদি আবেদন ফি ব্যতীত পরীক্ষা নিতে পারে, তাহলে ব্যাংক, মন্ত্রণালয়ে বা দপ্তরে কেন ফি নিতে হবে? সময় এসেছে পরিবর্তনের। যেহেতু তাদের প্রয়োজনে তারা নিয়োগ দিবে। সুতরাং পরীক্ষার ব্যায় তাদেরকেই বহন করতে হবে।'
সহ-সভাপতি মো: সবুজ হাওলাদার বলেন, 'একদিনে একজন চাকরী প্রার্থী সর্বোচ্চ একটি বা দুটি পরীক্ষা দিতে পারে।কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি যে' আমাদের দেশের মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, পরিদপ্তর, দপ্তর ও স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কোন সমন্বয় না থাকায় একই দিনে ২০, ২৫ এমনকি ২৬টি পরীক্ষা নেওয়ার নজির রয়েছে।'
সাংগঠনিক সম্পাদক মো: অসীম নায়েক বলেন, 'শিক্ষাকে যদি জাতির মেরুদন্ড বলা হয়ে থাকে তাহলে শিক্ষার মেরুদন্ড হলো বিশ্ববিদ্যালয়। আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার মানে পিছিয়ে থাকলেও ভর্তির আবেদন ফি নিতে মোটেও পিছিয়ে নেই।'
এছাড়াও মানববন্ধনে আরো বক্তব্য প্রদান করেন, মো: আসাদ আলী খান, মো: কামরুল ইসলাম, মো: সাইদুল ইসলাম, মোঃ মিজানুর রহমান, মো: সাদেকুল ইসলাম, বঙ্কিম চন্দ্র সরকার, অহিদুল ইসলাম ফয়সাল, শ্রী পবিত্র কুমার রায়, মো: মেহেদী কাওছার, মোছা: রওশন আক্তার পিংকি, কোহিনুর আক্তার, মোছা: শায়লা আনাম, মো: মাসুম বিল্লাহ, মো: লোকমান হোসেন, মো: মোসলিম মিয়া এবং জোবায়ের আলম সৈকত প্রমুখ।