a
সংগৃহীত ছবি
চীনের সিনোফার্মের কাছ থেকে কেনা ৩০ লাখ করোনাভাইরাসের টিকা ঢাকায় এসেছে। বাংলাদেশ বিমানের তিনটি পৃথক ফ্লাইটে এই টিকা গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ও আজ শুক্রবার ভোরে ঢাকায় আসে। বাংলাদেশ বিমানের উপমহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) তাহেরা খন্দকার শুক্রবার সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের তিনটি পৃথক ফ্লাইটে মোট ৩০ লাখ সিনোফার্মের টিকা ঢাকায় এসেছে। টিকা নিয়ে প্রথম ফ্লাইটটি ঢাকায় আসে গতকাল রাত সোয়া ১০টার দিকে। দ্বিতীয় ফ্লাইটটি আসে গতকাল দিবাগত রাত সোয়া একটার দিকে। আর তৃতীয় ফ্লাইটটি আসে আজ ভোররাতে।
তাহেরা খন্দকার জানান, বিমানের ফ্লাইটগুলো ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর বিমানের পক্ষ থেকে সব ধরনের গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিং সুবিধা প্রদান করা হয়।
গতকাল বাংলাদেশ বিমানের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ৩০ লাখ ডোজ টিকা দেশে আনতে ২৯ জুলাই বিমানের অত্যাধুনিক তিনটি ড্রিমলাইনার ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চীনের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। এগুলোর মধ্যে ছিল একটি বোয়িং ৭৮৭-৯ ও দুটি বোয়িং ৭৮৭-৮।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে প্রয়োজনীয় তাপমাত্রায় বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে এসব টিকা দেশে আনার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। এতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক এভিয়েশন নীতিমালা ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুরক্ষানীতি যথাযথভাবে অনুসরণ করে করোনা মহামারীকালে সাশ্রয়ী খরচে টিকা, ভেন্টিলেটর ও অন্যান্য সুরক্ষাসামগ্রী পরিবহন করছে বিমান।
এ নিয়ে তিনটি চালানে বাংলাদেশকে মোট ৭০ লাখ টিকা পাঠাল চীনের সিনোফার্ম। প্রথম দুই চালানের প্রতিটিতে ২০ লাখ করে মোট ৪০ লাখ ডোজ সিনোফার্মের টিকা বেইজিং থেকে ঢাকায় আসে। চলতি জুলাইয়ের প্রথম ও তৃতীয় সপ্তাহে চারটি ফ্লাইটের মাধ্যমে দেশে এসব টিকা নিয়ে আসে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশকে নিরবচ্ছিন্নভাবে টিকা সরবরাহের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে চীন। কেনার বাইরে বাংলাদেশকে দুই দফায় উপহার হিসেবে চীন সিনোফার্মের ১১ লাখ টিকা দিয়েছে।
চীন গত মে মাসে সিনোফার্মের তৈরি ৫ লাখ উপহারের টিকা প্রথম বাংলাদেশে পাঠায়। চীনের দ্বিতীয় দফা উপহারের ছয় লাখ সিনোফার্মের টিকা দেশে আসে জুনে।
ফাইল ছবি
ই-পাসপোর্টের সফটওয়্যার নিয়ে এক অভিনব জটিলতার মুখে পড়েছে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর (ডিআইপি)। তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের সময় স্বয়ংক্রিয় কম্পিউটার সিস্টেমে হাজার হাজার আবেদন আটকে যাচ্ছে। এতে যথাসময়ে প্রিন্টিং শেষ করা যাচ্ছে না।
এছাড়া বিপুল পরিমাণ আবেদন আটকে পড়ায় নজিরবিহীন পাসপোর্ট জটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে স্মরণকালের দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে পাসপোর্ট-প্রত্যাশীদের মধ্যে। বিদেশে জরুরি চিকিৎসা ছাড়াও বহুবিধ প্রয়োজনীয় কাজে বিদেশ যেতে পারছেন না অনেকে।
সূত্র বলছে, সফটওয়্যার জটিলতায় আটকে পড়া আবেদনের হার গড়ে ৪০ শতাংশেরও বেশি। অর্থাৎ, ১০০টি আবেদনের মধ্যে পেন্ডিং থাকছে অন্তত ৪০টি। বিশেষ করে এমআরপি (মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট) থেকে ই-পাসপোর্টে রূপান্তর জটিলতা ভয়াবহ। দাঁড়ি বা কমার মতো তুচ্ছ তথ্যবিভ্রাটেও হাজারো আবেদন আটকা পড়ে আছে।
এছাড়া এনআইডি, বিআরসি (জন্মনিবন্ধন সনদ) ও পেমেন্ট গেটওয়েতে (টাকা জমা) জটিলতার শেষ নেই। এসব কারণে মঙ্গলবার পর্যন্ত পেন্ডিং আবেদনের সংখ্যা ৩০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এ সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। অনলাইনে ফর্ম জমা দিলেও ২/৩ তিন মাসের আগে ছবি তোলার তারিখ মিলছে না। এ কারণে সিরিয়াল ভাঙার অনৈতিক চাপও বাড়ছে। এতে জরুরি কাজের কথা বিবেচনায় নিয়ে কেউ কেউ টাকার দিকে না তাকিয়ে যেভাবে হোক তড়িঘড়ি পাসপোর্ট নিতে মরিয়া। এতে করে দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, এমআরপি থেকে ই-পাসপোর্ট প্রবর্তনের পর থেকেই জটিলতার শুরু। তবে প্রথমদিকে ই-পাসপোর্টের আবেদন কম থাকায় সমস্যার ভয়াবহতা বোঝা যায়নি। কিন্তু বর্তমানে ৯৫ শতাংশ আবেদনই ই-পাসপোর্টের। ফলে জটিলতা চরম আকার ধারণ করেছে। ৮ নভেম্বর পেন্ডিং পড়ে ৩২ হাজার। সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হলেও আগামী দুই মাসের মধ্যে পেন্ডিং সংখ্যা লাখের ঘরে পৌঁছাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জানা যায়, আবেদনকারীদের নামের আদ্যাক্ষর নিয়ে জটিলতা সর্বোচ্চ। যেমন অনেকের নামের প্রথম অংশে ‘মোহাম্মদ’-এর সংক্ষিপ্ত রূপ হিসাবে ‘এমডি’ লেখা হয়। তবে কেউ কেউ ‘এমডি’র স্থলে শুধু ‘এম’ আবার কেউ ‘এমএইচডি’ লেখেন। কিন্তু অনেকের এনআইডিতে তথ্যবিভ্রাট রয়েছে। এ কারণে এমআরপি থেকে ই-পাসপোর্টে রূপান্তর করতে গেলেই আটকে যাচ্ছে আবেদন।
এছাড়া চৌধুরি, খান, খানম, শেখ, নবাব এবং মিয়া নামের বিভ্রাটে আটকে পড়া আবেদন কয়েক হাজার। আবার বর্তমান ঠিকানা, জরুরি প্রয়োজনের মোবাইল নম্বর, এমনকি ডাকঘর কোড পরিবর্তন হলেও কম্পিউটারে আবেদন ‘পেন্ডিং’ দেখাচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আটকে পড়া আবেদন ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ছাড়াতে ‘বেসিক চেকস’ বা বেসিক ক্লিয়ারেন্স নামে একটি সাময়িক ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। কিন্তু এতেও জটিলতা নিরসন হচ্ছে না। সারা দেশের ৬৭টি অফিসে আটকে পড়া আবেদন ক্লিয়ারেন্সের দায়িত্বে রয়েছেন মাত্র ৯ জন কর্মকর্তা। একজন কর্মকর্তার পক্ষে গড়ে ১৫০টি আবেদন ক্লিয়ার করা সম্ভব।
কিন্তু শুধু ঢাকা বিভাগীয় অফিসেই দৈনিক গড়ে পেন্ডিং পড়ছে ৮০০-এর বেশি আবেদন। স্বাভাবিকভাবেই তদবির বা দালালের সহায়তা ছাড়া পেন্ডিং আবেদনের জট খুলছে না। এসব কারণে দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পেন্ডিং আবেদন ক্লিয়ারেন্স এবং ভুল সংশোধন তদবিরের চাপে কর্মকর্তাদের অবস্থা চিড়েচ্যাপটা। সচিব, অতিরিক্ত সচিব, পুলিশ কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ এমনকি মন্ত্রী-নিয়মিতই তদবিরের ফোন আসছে। এছাড়া পাসপোর্ট কর্মকর্তাদের পরিচিতজন, বন্ধু ও আত্মীয়স্বজনের হঠাৎ ফোন আসা মানেই ক্লিয়ারেন্সের তদবির।
পরিস্থিতি এড়াতে পাসপোর্ট কর্মকর্তাদের অনেকে অপরিচিত ফোন নম্বর ধরা থেকে বিরত রয়েছেন। কেউ ফোন রেখেছেন সাইলেন্ট মুডে। আবার কেউ সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছেন সেলফোন।
সূত্র বলছে, উদ্ভূত সমস্যা সমাধানে পাসপোর্ট কর্মকর্তারা দফায় দফায় মিটিংয়ে বসেন। সর্বশেষ সমস্যার বিস্তারিত জানানো হয় ই-পাসপোর্ট প্রকল্প বাস্তবায়নকারী জার্মান কোম্পানি ভেরিডোজকেও। কিন্তু অদ্যাবধি সমাধান আসেনি। তবে আবেদন আটকে পড়ার কারণ হিসাবে নাম, পদবি, পোস্টকোড, ফুলস্টপসহ তথ্যবিভ্রাট-সংক্রান্ত মোট ৮০০ শব্দ চিহ্নিত করেছে ভেরিডোজ। এখন শব্দগুলোর অটো ক্লিয়ারেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা চলছে।
এ প্রসঙ্গে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক সেলিনা বানু বুধবার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ই-পাসপোর্ট প্রকল্প নতুন। ফলে সফটওয়্যারে আবেদন আটকে যাওয়ার সাময়িক কিছু জটিলতা দেখা যাচ্ছে। দ্রুততম সময়ে জটিলতা নিরসনে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কোম্পানি ভেরিডোজকে বলা হয়েছে। আমরা আশা করছি দ্রুতই সমস্যার সমাধান মিলবে।’
সফটওয়্যার ছাড়াও বিপুলসংখ্যক আবেদন এনআইডি জটিলতায় আটকা। গড়ে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ এনআইডিতে তথ্যবিভ্রাট পাওয়া যাচ্ছে। ফলে আবেদন জমা দেওয়ার পর অনেকে পুরোনো এনআইডি সংশোধন করছেন। কেউ আগের এনআইডি বদলে স্মার্টকার্ড আনছেন। এতে সার্ভার চেক করতে গিয়ে তথ্যে গরমিল পাওয়া যাচ্ছে।
এছাড়া অনেকের জন্মনিবন্ধন সনদ ডিজিটাল হয়নি। এ কারণে অনলাইনে ‘শো’ করছে না। আবার তথ্য সংশোধন করতে গেলে বদলে যাচ্ছে জন্মনিবন্ধন সনদের নম্বর। যাদের এনআইডি নেই, তারা জন্মনিবন্ধন সনদ জমা দেন। কিন্তু বয়স ২০ বছরের বেশি হলে জন্মনিবন্ধন সনদ গ্রহণযোগ্য নয়। আবার আবেদনকারীর আঙুলের ছাপ নিয়েও জটিলতা রয়েছে। ই-পাসপোর্টে ১০ আঙুলের ছাপ বাধ্যতামূলক।
কিন্তু বার্ধক্যজনিত কারণে অনেকের ছাপ মুছে যায়। এসব ক্ষেত্রে কয়েকবার হাত ধুয়ে, মেশিনে আঙুল চেপে ধরেও ছাপ উদ্ধার করা যাচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে যমজ বা দুজন আবেদনকারীর মুখমণ্ডল হুবহু মিলের কারণেও বহু আবেদন পেন্ডিং।
পাসপোর্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ইচ্ছাকৃত ভুল বা জালিয়াতির কারণেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পাসপোর্ট আবেদন পেন্ডিং। অনেকে অসদুদ্দেশ্যে আগের পাসপোর্ট নম্বর গোপন করে ই-পাসপোর্টের আবেদন জমা দিচ্ছেন। প্রকৃত নাম গোপন করে নতুন বা ছদ্মনামে জমা দেওয়া আবেদনের সংখ্যাও অনেক। এসব কারণে নাম, মাতাপিতার নাম, জন্মতারিখ সংশোধনে কড়াকড়ি করা হচ্ছে।
আবেদনের যথার্থতা যাচাইয়ের জন্য অঙ্গীকারনামা, অ্যাফিডেভিট এবং পুলিশ তদন্ত বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তারপরও অনেকে জাল কাগজপত্র জমা দিচ্ছেন। গত তিন মাসে আগারগাঁও বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসে এ ধরনের ৬০টি ফাইলের মধ্যে ৫৫টির অ্যাফিডেভিট জাল হিসাবে শনাক্ত হয়েছে।
ই-পাসপোর্টের আবেদন প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপেই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন অনেকে। কারণ অনলাইনে ই-পাসপোর্টের আবেদন করতে হলে ই-মেইল ঠিকানা থাকা বাধ্যতামূলক। অথচ ৮০ শতাংশ পাসপোর্ট-প্রত্যাশীর ই-মেইল ঠিকানা নেই। এ কারণে বাধ্য হয়ে তারা দালালচক্রের কাছে ধরনা দিচ্ছেন। আবার দালালের মাধ্যমে পূরণকৃত আবেদনে ভুলের পরিমাণ সর্বাধিক। দালালরা একই ঠিকানা বারবার ব্যবহার করছেন। উল্লিখিত ঠিকানায় গিয়ে আবেদনকারীর সন্ধান মিলছে না।
পাসপোর্ট কর্মকর্তারা বলছেন, করোনাপরবর্তী সময়ে প্রবাসী কর্মীসহ হঠাৎ পাসপোর্টের চাহিদা বেড়েছে। ঢাকাসহ সারা দেশেই রীতিমতো হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন পাসপোর্ট-প্রত্যাশীরা। কিন্তু জনবল সীমাবদ্ধতার কারণে ভিড় সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। শুধু আগারগাঁও বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসেই প্রতিদিন গড়ে দুই হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়ছে। অথচ তাদের প্রতিদিন গড়ে পাঁচ থেকে ছয়শর বেশি আবেদন ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা নেই। সূত্র: যুগান্তর
ছবি:মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
গত ২১ জুলাই, ২০২২ খ্রিঃ তারিখ মাস্টার্সের থিসিসের কাজ শেষে বাস যােগে নিজ বাসায় ফিরছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী পারিশা আক্তার (২৫)। তেজগাঁও থানাধীন কারওয়ান বাজারস্থ ওয়াসা ভবনের সামনে আনুমানিক সন্ধ্যা ৬ টার দিকে ট্রাফিক সিগন্যালে থেমে যায় বাসটি। এ সময় বাসের জানালা থেকে অভিযােগকারী পারিশার হাত থেকে তার ব্যবহৃত পােকো এম থ্রি কালাে রঙ এর মােবাইল ফোনটি টান দিয়ে এক ছিনকারী।
অভিযােগকারী এ সময় দ্রুত বাস থেকে নেমে সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে ০১ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে ধরে ফেলতে সক্ষম হন। পারিশার সাথে থাকা তার বন্ধুরা ঘটনাস্থল থেকে অপর একজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে ধরে ফেলেন। সন্দেজভাজন ব্যক্তিদ্বয় বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত থাকলেও, পারিশার মােবাইল চুরির ঘটনার সাথে জড়িত ছিলেন মর্মে প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
পরিশেষে, পারিশা ও তার বন্ধুদের সাহসী ভূমিকার বিষয়টি বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও সামাজিক যােগাযােগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলােচিত হয়। সংঘটিত অপরাধের বিষয়ে প্রথমে তেজগাঁও থানায় একটি জিডি লিপিবদ্ধ করেন পারিশা আক্তার। পরবর্তীতে আইনী বিষয় ও ন্যায় বিচার নিশ্চিতে পুলিশের অনুরােধে মামলা করতে সম্মত হন পারিশা (তেজগাঁও থানার মামলা নং ৪১, তারিখঃ ২৪ জুলাই, ২০২২ খ্রিঃ, ধারাঃ ৩৭৯ দন্ডবিধি, তদন্তকারী কর্মকর্তাঃ এসআই তারেক জাহান খাঁন)।
ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ এবং অপরাধীর বিষয়ে অভিযােগকারীর মৌখিক বর্ণনা অনুযায়ী কাজ শুরু করে তেজগাঁও থানা পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে গ্রেফতার করা হয় অভিযুক্ত ও আইনের সাথে সংঘাতে জড়িত শিশু ১। রাশেদুল ইসলাম (১৭) কে। প্রথমে অস্বীকার করলেও পুলিশের নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে এক পর্যায়ে ঘটনার সাথে নিজের ও মূল অভিযুক্ত ২। মােঃ রিপন আকাশ (২৪) এর জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে সে।
ইতােমধ্যে অন্য মামলায় গ্রেফতার হওয়া মােঃ রিপন আকাশ (২৪) কে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের স্বার্থে বিজ্ঞ আদালতে রিমান্ড চাওয়া হলে বিজ্ঞ আদালত ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার সাথে নিজের সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করে এবং চুরি করা মােবাইল ফোনটি মাত্র ৪,০০০ (চার হাজার) টাকার বিনিময়ে কারওয়ান বাজারের চোরাই মােবাইল ক্রেতা ৩। মােঃ শফিক (২১) এর কাছে বিক্রয় করেছে মর্মে জানায়।
অভিযুক্তের বক্তব্য অনুযায়ী, কারওয়ান বাজারে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় শফিককে এবং তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় চোরাই মােবাইলটি। অভিযুক্ত মােঃ রিপন আকাশের নামে বিভিন্ন থানায় ৬ টি মামলা, আইনের সাথে সংঘাতে জড়িত। শিশু রাশেদের বিরুদ্ধে ৪ টি মামলা এবং চোরাই মােবাইল ক্রেতা শফিকের নামে ২ টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। থানা পুলিশও বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনাপূর্বক অপরাধ দমন ও ন্যায় বিচার নিশ্চিতে মামলার তদন্ত কার্যক্রম দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমাপ্ত করেছে।
মামলাটি রুজু হবার ১০ দিনের মধ্যে অর্থাৎ আজ ৩ আগস্ট, ২০২২ খ্রিঃ তারিখে মামলার তদন্ত কার্যক্রম শেষে উল্লিখিত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে অভিযােগপত্র প্রদান করা হয়েছে।
আজ বুধবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী পারিশা আক্তার (২৫) এর চুরি যাওয়া মােবাইল ফোন উদ্ধার ও এ সংক্রান্তে ৩ জন অভিযুক্ত গ্রেফতারের বিষয়ে আয়ােজিত বিফ্রিং করে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন তেজগাও থানার ওসি রুবায়েত।
এসময় তিনি বলেন পারিসার মত যারা সাহসিকতার পরিচয় দেয় তারা আসলেই প্রশংসার দাবিদার। এছাড়া তিনি আরো জানান গত এক মাসে তেজগাঁও থানাধীন ৪০টি ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। এমন ঘটনা ঘটলে ভুক্তভোগীদের থানায় মামলা করার পরামর্শ দেন তিনি।
পারিসা নিজ ফোন ফেরত পেয়ে জানান, আসলে আমার থিসিসের সমস্ত কাজ ওই ফোনে ছিল ফোন হারিয়ে অনেক কষ্টে সকল কিছু জমা দিয়েছ তবুও ফোন ফেরত পেয়েছি এজন্য প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই।