a
ছবি: মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
সাইফুল আলম, ঢাকা: দীর্ঘদিন ধরে মিডিয়ায় আলোচনায় থাকা "অহিংস গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশ" সংগঠনটি আজ একটি বিশেষ আইন প্রণয়নের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে। ২৫ শে নভেম্বর শাহবাগের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ভুল বুঝাবুঝির প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, গত ৫৩ বছর ধরেই, সীমাহীন দুর্নীতির মাধ্যমে লোপাট করে একটি দুর্বৃত্ত চক্র দেশে বিদেশে দৃষ্টিকটু বিলাসবহুল জীবন যাপন করছে, লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা দেশে পুঞ্জিভুত করে রেখেছে ও বিদেশে পাচার করছে। এভাবেই আমাদের কৃষক, শ্রমিক, হকার, ব্যবসায়ীসহ নিম্ন ও মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীকে পুজিশূন্য করে চরম অর্থনৈতিক সংকটে ফেলে দেয়া হয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে দেশের মানুষের মধ্যে চরম অস্থিরতা ও বৈষমের সৃষ্টি হয়েছে।
এই নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে আ. ব. মোস্তাফা আমিনের নেতৃত্বে অহিংস গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশ দূর্নীতি বিরোধী শিরোনামে “অবৈধ অর্থ উদ্ধার ও গণমূখী” বিনিয়োগ জাতীয় সংস্থা” নামে একটি বিশেষ আইন প্রনয়ণের দাবীতে ২০২১ সাল হতেই প্রচারপত্র বিতরণের মধ্যে দিয়ে ধানমন্ডি অফিস হতে শুরু করে ২৫ নভেম্বর ২০২৫ইং তারিখ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় ৪ হাজার বৈঠক ও সমাবেশ করেছে।
এর মধ্যে গত ১৮ আগষ্ট ২০২৪ইং তারিখে শাহবাগে লক্ষাধিক আবেদনকারী ও সংগঠক নিয়ে একটি সমাবেশ শেষে অর্ন্তবর্তী সরকারের যমুনা কার্যালয়ে আইন পাশের দাবীতে আইনের খসড়াটি হাতে হাতে জমা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে আইন পাশের দাবীতে আরো দুইখানা তাগাদাপত্র দেওয়া হয়েছে। এতে করে কোন রকম সাড়া না পেয়ে অহিংস গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশর নেতৃবৃন্দ আইন পাশের চাপ প্রয়োগের জন্য ২৫/১১/২০২৪ইং তারিখে একটি সমাবেশ আহব্বান করে। এতে করে ২৫ নভেম্বর ২০২৪ অহিংস গনঅভ্যুত্থান বাংলাদেশ এর সংগঠকসহ লাখো আন্দোলনকারী ঢাকা সরওয়ার্দী উদ্যান ও শাহবাগ মূখী হওয়ার খবরটি সারা বাংলাদেশের টপ নিউজ ছিল। তবে ২৫ নভেম্বর উক্ত টপ নিউজগুলো পজেটিভ না হয়ে নেগেটিভ ভাবে প্রচার হয়েছে সেটাই বড় দু:খজনক।
২৫ তারিখে শাহবাগ সমাবেশের অনুমতি চেয়ে ১৮ই নভেম্বর ২০২৪ইং আবেদন করা হয়। তবে থানা পুলিশের পরামর্শে যাদুঘরে দর্শনার্থীদের অসুবিধা ও পিজি হাসপাতালসহ বারডেম হাসপাতালে রোগীদের অসুবিধার কারণে সেই আবেদনটা পরিবর্তন করে ১৯ নভেম্বর ২০২৪ইং তারিখে সরওয়ার্দী উদ্যানে পুনরায় আবেদন করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় সমাবেশটি করা না করা নিয়ে বেশ কয়েকবার পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা হতে ২৪/১১/২০২৪ইং তারিখে আমরা অবগত হলাম সমাবেশটি করার কোন অনুমতি পাবো না। সেই সময়ে আমাদের অনেক লোকজন ঢাকায় সমাবেশকে কেন্দ্র করে আত্নীয়-স্বজনদের বাসায় উঠে গেছে। তারা রেল গাড়ী, বাস, লঞ্চ, মাইক্রোবাস ভাড়া করে ঢাকা মুখি হয়ে যাওয়ায় সমাবেশে লোক আসা বন্ধ করতে পারিনি কিন্তু কমিয়ে এনেছি।
অহিংস গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশ একটি স্বেচ্ছাসেবী, সিভিল রাইট অর্গনাইজেসন নামে অর্থনৈতিক কর্মসূচী নিয়ে মাঠে চারটি বিষয় নিয়ে কাজ শুরু করে। তবে উক্ত সংগঠনটি কোন আর্থিক লেনদেন করবে না, করবে গঠিতব্য অবৈধ অর্থ উদ্ধার ও গণমূখী বিনিয়োগ জাতীয় সংস্থা।
ধাপে ধাপে চারটি কাজ হলোঃ
১। সারা বাংলাদেশ থেকে এক কোটি আশি লক্ষ লোকের আবেদন/ অনুস্বাক্ষর গ্রহন করা যা হয়েছে।
২। বিশিষ্ট আইনজীবিদের পরামর্শক্রমে দুর্নীতি বিরোধী শিরোনামে একটি “অবৈধ অর্থ উদ্ধার ও গনমূখী বিনিয়োগ জাতীয় সংস্থা” নামে আইন প্রনয়নের উদ্দেশ্যে তখন যে সরকার ক্ষমতায় থাকবে তাদের কাছে দাবি উপস্থাপন করা। ইতিমধ্যে যেটি ১৮ আগষ্ট ২০২৪ ইং তারিখে অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের দপ্তর যমুনায় পেস করা হয়েছে।
৩। আইনটি পাশ করা হলে দেশ-বিদেশ হতে দুর্নীতি বাজদের কাছে থাকা অবৈধ পুঞ্জিভুত ও পাচারকৃত টাকা গনশুনানীর মাধ্যমে উক্ত সংস্থাটি উদ্ধার করতে সক্ষম হবে।
৪। সেই টাকাগুলো বিনা সুদে, বিনা জামানতে, অতি সাধারন পুজি শূন্য আবেনকারীদের মধ্যে সহজ শর্তে বিনিয়োগ হিসাবে দেওয়ার সম্ভাব্য প্রস্তাব রয়েছে। যা দিয়ে ছোট ছোট শিল্প কারখানা হাঁস, মুরগী, গরু, ছাগলের ফার্ম ও মৎস্য খামার করতে পারলে সারা বাংলাদেশে একটি অর্থনৈতিক বিপ্লব ঘটিয়ে স্বনির্ভর জাতি গঠনের মধ্যে দিয়ে দুর্নীতি মুক্ত সোনার বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে কাজ করছে। এখন মুল বিষয়টি হল ২৫ তারিখে সমাবেশটি যে নেগেটিভ ভাবে প্রচার হয়েছে তা অত্যন্ত অপরাজনীতি ও দুঃখজনক। তবে আমি যা বুঝতে পেরেছি, সমাবেশটি ভন্ডুল করার জন্য তিনটি মাধ্যমকে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে।
০১। বৈষম্যসহ সাধারণ ছাত্রদের মধ্যে বলা হয়েছে এরা আওয়ামীগের দোষর। ০২। নির্বাহী বিভাগে প্রচার করা হয়েছে এরা সরকার উৎখাত করতে আসছে। ০৩। মিডিয়ায় সাধারণ জনগনের উদ্দেশ্যে প্রতারক হিসাবে বলা হয়েছে। ঢাকা আসলে এক লক্ষ টাকা দেওয়া হবে যা বিভ্রান্তি কর ও খন্ডিতাংশ ।
প্রিয় দেশবাসী, আপনাদের জ্ঞাতার্থে জানাচ্ছি যে, ২৪শে নভেম্বর রাত ৯টা হতে সংগঠক ও নেতাদের বাস ও অফিস হতে গ্রেফতারের পর হতেই সমাবেশটি এলোমেলো করার জন্য সমাবেশগামী জনগণদের আওয়ামীলীগের দোসর, সরকার পতনের জন্য আসতেছে, ঢাকা আসলে ১ লক্ষ টাকা দিবে বলে প্রতারক হিসাবে বিভিন্ন মিডিয়া প্রচার করেছে। যার জন্য প্রচুর হামলা ও মামলা হয়েছে যারা দেশের বিভিন্ন জায়গা হতে সমাবেশের উদ্দেশে রওনা হয়েছে ,পথে পথে তাদের যানবাহন ভাঙ্গচুর করা হয়েছে, পিটিয়েছে, মোবাইল ছিনতাই করেছে, মানি ব্যাগসহ নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে। এতে করে সবচেয়ে বড় দূর্ঘটনার সম্মুখীন হয়েছে হাতিয়া, লক্ষীপুর, কিশোরগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, চাঁদপুর, নারায়নগঞ্জ, সাভার, গাজীপুর, ঢাকার আবেদনকারী ও সংগঠকগণ।
সুতরাং আজকের সমাবেশ হতে আমরা দেশবাসীকে জানাচ্ছি যে, আমরা আওয়ামীলীগের কোন দোসর ছিলাম না। সরকার পতনের জন্য সমাবেশটি আহবান করা হয়নি এবং বিগত ৫ বছরে আমাদের কাজ কর্মগুলো খুবই সু-শৃঙ্খলভাবে সম্পূর্ন হয়ে আসছে বলে কোনরূপ প্রতারনার সুযোগ ছিল না হলে পুলিশে সোপর্দ করার কথা ফরমে উল্লেখ ছিল । মিডিয়া তিনশত, পাঁচশত, একহাজার, টাকা নেওয়ার যে প্রচার হয়েছে সেগুলো দূরুত্ব বুঝে পরিবহনের ভাড়া নিজেদের ব্যবস্থাপনায় স্বইচ্ছায় দিয়েছিল । সুতরাং এই কাজে কেউ প্রতারক নয়।
অতএব, এই সাংবাদিক সম্মেলন হতে আমরা দেশের বিভিন্ন থানায় আমাদের নেতৃবৃন্দ ও সংগঠকদের মামলাগুলো প্রত্যাহারসহ সকলের নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি করছি এবং আপনারা সঠিক তথ্যগুলো মিডিয়ায় তুলে ধরলে সংগঠকগণ তাদের ইজ্জত-সম্মান নিয়ে নিজ নিজ এলাকায় বসবাস করতে পারবেন।
ফাইল ছবি
হেফাজতে ইসলামের নেতাদের গ্রেফতার ও দেশের বিভিন্ন স্থানে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের হয়রানির প্রতিবাদে বলা হয়েছে, ‘আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি, এহেন পরিস্থিতিতে ওলামা-মাশায়েখসহ দেশবাসী গভীরভাবে উদ্বিগ্ন ও উৎকণ্ঠিত। আল্লাহপাক কোনো জালেমকে ছেড়ে দেন না। আল্লাহর গজব থেকে রক্ষা পেতে হলে এই ধরনের অমানবিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করুন।’
আজ বৃহস্পতিবার এক টেলিকনফারেন্সে ওলামা-মাশায়েখরা এসব মন্তব্য করেন। এক বিবৃতিতে তারা দেশে বিদ্যমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ওই বিবৃতিতে হেফাজত নেতাদের রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতনের তীব্র নিন্দা ও আলেমদের হয়রানি বন্ধের দাবি জানান।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘বিগত ২৬, ২৭ ও ২৮ মার্চ পরিস্থিতির পরবর্তী অবস্থা দেশবাসীর সামনে স্পষ্ট। দেশের আলেম-ওলামাদের বিরুদ্ধে যেভাবে মিথ্যাচার ও তাদের মানহানি করা হচ্ছে, এতে মনে হচ্ছে আলেম-ওলামারা ভিনদেশি নাগরিক। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে কেউই আল্লাহর পাকড়াও থেকে রেহাই পাবে না।’
শীর্ষ আলেমগণদের দাবি, পবিত্র মাহে রমজানের পবিত্রতা রক্ষা ও এ মাসে অপরিসীম ফজিলত লাভের আশায় দেশে ও জনগণের কল্যাণ কামনায় মসজিদগুলো তারাবিসহ সব এবাদতের জন্য উন্মুক্ত করে দিন। কোরআনে কারিমের তেলাওয়াতের জন্য মক্তব ও হিফজখানাগুলো খুলে দিন।
সারা দেশে করোনা মহামারি থেকে দেশ ও জাতিকে রক্ষার জন্য উপরিল্লিখিত দাবিগুলো মেনে নেওয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট তারা জোর দাবি জানায়।
সংগৃহীত ছবি
বিশ্বব্যাপী তোলপাড় করা করোনাভাইরাসে ডেল্টা ধরন দেশে দেশে কেন লাফিয়ে বাড়ছে- তার কারণ অনুসন্ধান করে সিএনএন অনলাইন জানিয়েছে, এই ধরনটি মানুষের শরীরে ঢুকেই নিজের বহুসংখ্যক ‘কপি’ তৈরি করে ফেলে। ফলে এটি ছড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রে বিদ্যুৎগতি সঞ্চার করে।
গতকাল প্রকাশ করা প্রতিবেদনে বলা হয়, ডেল্টা করোনার একটি উচ্চ সংক্রামক ধরন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলেছে, গত বছরের শেষদিকে যুক্তরাজ্যে প্রথম শনাক্ত হয় করোনার আলফা ধরন। এই ধরনকে অতি সংক্রামক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। কিন্তু আলফার চেয়ে ডেল্টা ৫৫ শতাংশ দ্রুত ছড়ায়। ২০২০ সালের শেষদিকে ভারতে প্রথম করোনার ডেল্টা ধরন শনাক্ত হয়। একে শুরুর দিকে করোনার ভারতীয় ধরন বলা হতো। পরে ডব্লিউএইচওর পক্ষ থেকে এই ধরনের নতুন নাম দেওয়া হয় ‘ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট’। ধরনটির বৈজ্ঞানিক নাম (বি.১.৬১৭)।
গত মে মাসে করোনার ডেল্টা ধরনকে ‘উদ্বেগজনক ধরন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে ডব্লিউএইচও। ভারতে করোনার ডেল্টা ধরন শনাক্তের পর তা দ্রুত দেশটিতে ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ভারতে করোনার ডেল্টা ধরন প্রাধান্যশীল হয়ে ওঠে। ডেল্টা ধরনের কারণেই ভারতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মারাত্মক আকার ধারণ করে। সংক্রমণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে দেশটি। এতে ভারতের স্বাস্থ্যব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়ে। পরে করোনার ডেল্টা ধরন যুক্তরাজ্যে শনাক্ত হয়।
এরপর একের পর এক দেশে ডেল্টা ধরন শনাক্ত হওয়ার খবর আসতে থাকে।ডব্লিউএইচও বলছে, বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ১০০টি দেশে করোনার ‘ডেল্টা’ ধরন শনাক্ত হয়েছে। ডব্লিউএইচও সতর্ক করে বলেছে, বিশ্বে ডেল্টার সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছে। ফলে করোনার এই ধরন অন্যসব ধরনকে দ্রুত ছাপিয়ে যেতে পারে। এভাবে শিগগিরই বিশ্বে ডেল্টা করোনার আধিপত্যশীল ধরন হয়ে উঠতে পারে।
ব্রাউন ইউনিভার্সিটির স্কুল অব পাবলিক হেলথের ডিন আশীষ ঝা বলেন, করোনা মহামারী শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসের যত সংস্করণ শনাক্ত হয়েছে, তার মধ্যে ডেল্টা সবচেয়ে সংক্রামক। তিনি বলেন, ‘এটা (ডেল্টা) সত্যিই খুব সংক্রামক।’
যুক্তরাষ্ট্রে গত মার্চে প্রথম করোনার ডেল্টা ধরন শনাক্ত হয়। জুলাইয়ের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রে শনাক্ত রোগীদের অর্ধেকের বেশি ছিলেন ডেল্টায় সংক্রমিত। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) জানায়, এখন এই হার ৮৩-তে পৌঁছে গেছে। সিডিসির পরিচালক রচেল ওয়ালেনস্কি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে করোনার ডেল্টার সংক্রমণ বৃদ্ধির এই হার নাটকীয়। যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের সব কটিতেই করোনার ডেল্টা ধরন পাওয়া গেছে। তাহলে প্রশ্ন জাগে, করোনার এই ধরন এত দ্রুত কীভাবে ছড়াচ্ছে?
একটি গবেষণা ইঙ্গিত দিয়েছে যে, করোনার অন্যসব ধরনের চেয়ে এই ডেল্টা ধরন মানুষের মধ্যে দ্রুতগতিতে সংক্রমণ ছড়িয়ে থাকতে পারে। কারণ, ধরনটি মানুষের শরীরে দ্রুত হারে নিজের অনেক ‘কপি’ করতে পারে।
চীনের বিজ্ঞানীরা ডেল্টায় সংক্রমিত রোগীদের নিয়ে গবেষণা করেছেন। এ ক্ষেত্রে তারা মহামারীর শুরুর দিকে আক্রান্ত রোগীদের সঙ্গে ডেল্টায় সংক্রমিত রোগীদের তুলনা করেছেন। তারা দেখতে পেয়েছেন যে, ডেল্টায় সংক্রমিত রোগীদের শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতি অনেক বেশি। তুলনামূলক বিচারে এই পরিমাণ ১ হাজার ২৬০ গুণ বেশি।
ব্রাউন ইউনিভার্সিটির স্কুল অব পাবলিক হেলথের ডিন আশীষ ঝা বলেন, যারা ডেল্টা ধরনে সংক্রমিত হচ্ছেন, তাদের শরীরে ভাইরাসের পরিমাণ অনেক বেশি। শরীরে ভাইরাস প্রবেশের খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তা অনেক বেড়ে যাচ্ছে। এই সময়টা পাঁচ বা সাত মিনিট। তা ছাড়া এই ধরনে সংক্রমিত হতে আক্রান্ত ব্যক্তির ছয় ফুট দূরত্বের মধ্যেও কাউকে আসতে হবে না। যারা টিকা নেননি, তারাই বেশি ডেল্টায় সংক্রমিত হচ্ছেন বলে জানান আশীষ ঝা। তিনি আরও বলেন, ডেল্টা থেকে লোকজন সহজেই সংক্রমিত হচ্ছেন।