a
পুলিশ দিয়ে পিটিয়ে নৌকায় ভোট নেওয়ার ঘোষণা (ভিডিও)
কক্সবাজারের এক ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান পুলিশ দিয়ে পিটিয়ে নৌকায় ভোট নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তার এই বক্তব্যে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
চেয়ারম্যানের ওই বক্তব্যের ভিডিও সোস্যাল মিডিয়া ফেসবুকে রীতিমতো ভাইরাল।
বর্তমান চেয়ারম্যান শাহ আলম এমন দম্ভোক্তিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ৩নং হলদিয়া পালং ইউনিয়নের। তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত কমিটির সহসভাপতি।
গত ১৬ মার্চ রাত ১১টায় হলদিয়া পালং ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের হাতির ঘোনা এলাকায় আগাম নির্বাচনী প্রস্তুতি সভায় এ বক্তব্য দেন তিনি।
ভিডিওতে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় চেয়ারম্যান শাহ আলমকে বলতে শোনা গেছে— নৌকা প্রতীক তার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে নৌকা প্রতীক দেবেন। তিনি অন্য কোনো মার্কায় কাউকে ভোট দিতে দেবেন না। পুলিশ এখন সরকারি গুণ্ডাবাহিনী। এই পুলিশ দিয়ে পিটিয়ে নৌকায় ভোট নেওয়া হবে।
গত ১৬ মার্চ গভীর রাত থেকেই ভিডিওটি ফেববুকে অনেকের টাইমলাইনে ঘুরপাক খাচ্ছে।
নির্বাচনী প্রস্তুতি সভায় চেয়ারম্যান শাহ আলম সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, আমার ভাই সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম। প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে স্তরে অনুসারী বসিয়ে গেছেন। আগামী আরও ১০ বছর আমরা ক্ষমতা ভোগ করব।
চেয়ারম্যানের এমন বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে হলদিয়াপালং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. ইসলাম বলেন, বর্তমান চেয়ারম্যানের বক্তব্য সাধারণ মানুষের মাঝে দলের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে।
উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান হামিদুল হক চৌধুরী বলেন, নৌকার মনোনয়ন কে পাবে তা দলের নির্বাচনী বোর্ড ঠিক করবেন। বঙ্গবন্ধুকন্যা দলীয় সভানেত্রী তার ঘরে এসে নৌকা দিয়ে যাবে এ ধরনের বক্তব্য শিষ্ঠাচারবহির্ভূত। এ ধরনের বক্তব্য দিয়ে তিনি দলীয় সভানেত্রীকে হেয় করেছেন।
হামিদুল হক আরও বলেন, উখিয়াতে আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা এখন যে কোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি। জনগণ এমনিতেই নৌকায় ভোট দেবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অবাধ, সুস্থ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে। জনগণের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন করার সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না।
উখিয়া থানার ওসি আহমেদ সঞ্জুর মোরশেদ বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ একটি সুশৃঙ্খল বাহিনী। এই বাহিনী নিয়ে বিরূপ ও অশালীন মন্তব্য না করার জন্য অনুরোধ করছি।
সংগৃহীত ছবি
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অন্তত পাঁচটি যানবাহনে আগুন দিয়েছে হরতাল সমর্থকরা। রবিবার (২৮ মার্চ) সকালে মহাসড়কের সাইনবোর্ডের কাঁচপুর এলাকায় দুইটি ট্রাক, একটি বাস ও একটি কাভার্ড ভ্যানসহ পাঁচটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। সেই সঙ্গে আরও শতাধিক গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশ-বিজিবির সঙ্গে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে শাকিল (২৫) নামে একজন ফার্নিচার মিস্ত্রি গুলিবিদ্ধ হন।
আজ সকালে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাক এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি ফেলে ও টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে হরতাল সমর্থকরা। এ সময় বন্ধ হয়ে যায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যান চলাচল। পরে পুলিশ এসে বিক্ষোভকারীদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দেয় ও আগুন নিভিয়ে যানবাহন চলাচল শুরু করে।
কিছুক্ষণ পর আবারও অশান্ত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। সড়কের যানবাহন ভাঙচুর ও আগ্নিসংযোগ করে বিক্ষোভকারীরা। একপর্যায়ে ফাঁকা গুলি ছুড়ে বিজিবির সদস্যরা। এসময় উভয়পক্ষে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষে শাকিল (২৫) নামে একজন ফার্নিচার মিস্ত্রি গুলিবিদ্ধ হন বলে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, হেফাজতে ইসলামের সহস্রাধিক কর্মী ওই এলাকায় অবস্থান করছেন। তাদের থেকে একটু দূরেই অবস্থান নিয়েছে র্যাব, পুলিশ, বিজিবি ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। এখানে থেমে থেমে সংঘর্ষ চলছে।
হরতালের সমর্থনে সকাল থেকেই নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাক এলাকায় জড়ো হতে থাকেন হেফাজতের নেতা-কর্মীরা। এরপর হরতালের সমর্থনে মিছিল করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শিমরাইল এলাকায় অবস্থান নেয় তারা। এ সময় মহাসড়কে বেশ কয়েকটি স্থানে টায়ারে আগুন ধরিয়ে এবং রাস্তায় ইট বিছিয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। পরে পুলিশ এসে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেয়।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ডিআইটি, চাষাঢ়া, সাইনবোর্ড, শিমরাইলসহ বিভিন্ন এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি ও র্যাব সদস্যরা।
ঢাকা, চট্টগ্রাম ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নেতাকর্মী ও প্রতিবাদী মুসল্লিদের হত্যা ও হামলার প্রতিবাদে আজ রবিবার (২৮ মার্চ) সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি। গত শুক্রবার রাতে পুরানা পল্টনে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির আবদুর রব ইউসুফী এ ঘোষণা দেন।
করোনাভাইরাস
গত ২৪ ঘন্টায় করোনাভাইরাসে মৃত্যু হয়েছে ৯৪ জন। এ নিয়ে করোনাভাইরাসে দেশে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ১০ হাজার ৮১ জন।
এদিকে, গত ২৪ ঘন্টায় করোনাভাইরাসে শনাক্ত হয়েছে ৪১৯২ জন। এ নিয়ে দেশে মোট করোনাভাইরাসে শনাক্তের সংখ্যা ৭ লাখ ৭ হাজার ৩৬২ জন।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে আরও জানানো হয়, গত ১ দিনে বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ৫৯১৫ জন রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত মোট ৫ লাখ ৯৭ হাজার ২১৪ জন করোনারোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন।