a
ফাইল ছবি
রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সড়কে সমাবেশ করেছে বিএনপি।এই সমাবেশের ওপরে একাধিক ড্রোন উড়তে দেখা গেছে। এতে অনেকের মাঝে সন্দেহ আর আতঙ্ক দেখা দেয়। ড্রোন উড়তে দেখে অনেকেই সমাবেশস্থল ছেড়ে চলে যান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সমাবেশের ঠিক ওপরে পল্টন পলওয়েল ও চায়না টাউন মার্কেট বরাবর কয়েকটি ড্রোন উড়তে দেখা যায়। এগুলো নির্দিষ্ট স্থানে স্থির হয়ে থাকে। তবে এসব ড্রোনে ক্যামেরা ছিল কি না- তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির যৌথ উদ্যোগে ‘জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, বিদ্যুতের লোডশেডিং, গণপরিবহণের ভাড়া বৃদ্ধি, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং ভোলায় পুলিশের গুলিতে নুরে আলম ও আব্দুর রহিমের হত্যার প্রতিবাদে’ এই সমাবেশ ডাকা হয়।
সমাবেশের জন্য দলীয় কার্যালয়ের সামনে অস্থায়ী মঞ্চ তৈরি করা হয়। সকাল থেকে বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে আসতে শুরু করেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাজারো নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে সমাবেশ জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
নাইটিংগেল মোড় থেকে ফকিরাপুল মোড় পর্যন্ত দুই পাশের সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত রাখতে জাসাসের আয়োজনে গান, দলীয় সংগীত, কবিতা আবৃত্তির আয়োজন করা হয়। দুপুর ২টায় আনুষ্ঠানিকভাবে সমাবেশ শুরু হয়।
এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে নয়াপল্টন ও এর আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়। সূত্র: যুগান্তর
ছবি: সংগৃহীত
আগামীকাল শনিবার কুমিল্লায় বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ। শুক্রবার সকাল থেকে মিছিল নিয়ে কুমিল্লার টাউন হল মাঠে আসতে থাকেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। বেলা গড়ানোর সাথে সাথেই দখল হয়ে যায় টাউন হল প্রাঙ্গণ। নেই তিল ধারণের ঠাঁই। সন্ধ্যায় পুরো টাউন হলে উপস্থিত নেতাকর্মীরা এক আওয়াজ। ‘লড়াই লড়াই লড়াই চাই-লড়াই করে বাঁচতে চাই।’
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় আর কোনো মিছিল টাউন হলে প্রবেশ করতে পারছে না। কান্দিরপাড় পূবালী চত্বর, লিবার্টি মোড়, রামঘাটলায় অবস্থান নিচ্ছেন কর্মীরা। এদিকে আধা কিলোমিটর দূরে ঈদগাহে, দেড় কিলোমিটার দূরে আদালতের পাশের সড়কে চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়ায় নেতাকর্মীদের অবস্থান করতে দেখা গেছে। টাউন হল মাঠে উপরে সাদা কাপড় টানিয়ে ঘাসের উপরে শুয়ে নেতাকর্মীরা বিশ্রাম নিচ্ছেন।
কুমিল্লার নাঙ্গলকোট থেকে আসা যুবদল নেতা শাহাবুদ্দিন ও রিপন জানান, আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। খাবার কিনে খেতে কষ্ট হয়। আমরা পরিবর্তন চাই।
লাকসামের ফখরুল ইসলাম বলেন, আমরা কয়েক হাজার নেতাকর্মী টাউন হলের গণসমাবেশে এসেছি। মানুষের মধ্যে এক রকম জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এই জোয়ার পরিবর্তনের জোয়ার।
মহানগর বিএনপি নেতা কাউসার জামান বাপ্পী বলেন, অনেকে ধারণা করছেন সমাবেশে ৫ লাখ মানুষ উপস্থিত হবে। আমি মনে করি এটা আরো অনেক বেশি হবে। কারণ আজ বিকাল পর্যন্ত টাউন হল ও তার আশপাশে হাঁটার জায়গা নেই।
বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক (কুমিল্লা বিভাগ) মোস্তাক মিয়া বলেন, সমাবেশে প্রধান অতিথি থাকবেন বিএনপির মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বক্তব্য রাখবেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন, মীর্জা আব্বাস ও নজরুল ইসলাম খানসহ অন্যান্য নেতারা।
সভাপতিত্ব করবেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আমিন-উর-রশিদ ইয়াছিন। কেন্দ্রীয় নেতারা দুপুর ২টা থেকে বক্তব্য দিলেও সমাবেশের কার্যক্রম সকাল থেকেই শুরু হয়ে যাবে।
কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও গণসমাবেশের প্রধান সমন্বয়ক আমিন-উর-রশিদ ইয়াছিন বলেন, এই সমাবেশ জনসমুদ্র হবে না, এটা হবে মহাসমুদ্র। আমাদের ধারণার বাইরে নেতাকর্মীরা হাজির হচ্ছেন।
তিনি জানান, আমরা কয়েকশ’ মাইক প্রস্তুত রেখেছি। সমাবেশের মূলমঞ্চ টাউন হলে থাকবে। নেতাকর্মীরা থাকবেন আশেপাশের পাঁচ-ছয় কিলোমিটার এলাকায়। কান্দিরপাড় থেকে শাসনগাছা, টামছম ব্রিজ, রানীর বাজার, ফৌজদারী মোড় ও চকবাজার পর্যন্ত বিস্তৃতি হবে। সূত্র: বিডি প্রতিদিন
সংগৃহীত ছবি
ফজরের আজান শুনলে আর চুরি করে না শিমুল হাওলাদার। ওর মনে জাগ্রত হয়, মানুষজন নামাজ পড়ে পূণ্যের কাজ করে। এই সময় চুরি করলে বিপদ হতে পারে, ধরা পড়লে গণপিটুনি দিতে পারে। কয়েকবছর আগে সিলেটে চুরি করতে গিয়ে একবার এমন হয়েছিল। তাছাড়া ভোরে মসজিদগামী লোকজনের প্রতি তার এক ধরনের শ্রদ্ধাবোধ কাজ করে। সেজন্য আজানের আগেই কাজ শেষ করে সে।
এভাবেই কথাগুলো বলছিল গ্রীল কেটে প্রায় ৭/৮ বছর যাবত চুরি করা শিমুল। তবে ওর এবারের কাজটা বেশ ঝুঁকিপূর্ণই ছিল। ইতোপূর্বে ৫ বার গ্রেফতার হওয়া শিমুল এবার দুঃসাহসিকভাবেই ঝুঁকি নিয়েছিল। গ্যাস লাইনের পাইপ বেয়ে রাত ৩ টার পর ফিল্মি স্টাইলে চার তলায় উঠে পড়ে শিমুল। ব্যাপক ঝুঁকি নিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় রান্নাঘরের একজস্ট ফ্যান ভেঙে বিশেষ কায়দায় বাড়িতে ঢুকে পড়ে সে।
এত ছোট্ট জায়গা দিয়ে ঢুকতে গিয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গা দিয়ে রক্তও বের হয় ওর। কানাডায় পড়ালেখা করা এবং সেখানে পার্টটাইম কাজ করা সৈয়দ আশিক মাহমুদ জানুয়ারিতে দেশে বেড়াতে আসে। কয়েকদিন আগে গভীর রাত পর্যন্ত অনলাইনে অফিসিয়াল কাজ শেষে ল্যাপটপসহ দরজা খুলেই ঘুমিয়ে পড়ে আশিক। ভাগ্য সুপ্রসন্ন শিমুল সেই ঘরে হাতের কাছেই দু’টো ল্যাপটপ আর একটা মোবাইল ফোন পেয়ে একই পথে নেমে পড়ে ৪ তলা থেকে।
অফিসিয়াল গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টস সমৃদ্ধ ল্যাপটপ হারিয়ে দিশেহারা আশিকের বাবা মামলা করার পর এসআই মোর্শেদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। চারদিনের মাথায় চোরের থলিদার মাসুদ ও চোর শিমুল অভিযোগকারীর ২টা ল্যাপটপ ও একটি মোবাইল ফোনসহ আরও ১৭টা চোরাই মোবাইল ফোন নিয়ে গ্রেফতার হয়। দীর্ঘদিন যাবত চুরি আর চোরাই জিনিসপত্র বেচাকেনায় জড়িত দু’জনের বিরুদ্ধে সব আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আশিক ও তার পরিবার সবকিছু ফেরত পেয়ে এসআই মোর্শেদের সামগ্রিক কার্যক্রমে বেজায় খুশি। তবে চোর হলেও নীতি ভালো শিমুলের নৈতিকতার কথা শুনে আমরাও খুশি!!!
(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)
লেখক: ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, পল্লবী থানা, ডিএমপি।