নবীগঞ্জে কুশিয়ারা নদী থেকে বালু উত্তোলনের ফলে প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংসের পাশাপাশি হুমকির মুখে পড়েছেন তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা। অপর দিকে বালু উত্তোলনে বর্ষা মৌসুমে প্রতি বছর হুমকিতে পড়ছে কুশিয়ারা নদীর বাঁধ। আর এই বাঁধ নির্মাণে সরকারের ব্যয় হচ্ছে কোটি কোটি টাকা। অব্যাহত বালু উত্তোলনে নীরবে কাঁদছে নদীটি। উপজেলা প্রশাসনের জেল জরিমানা থাকলেও ধরা ছোঁয়ার বাহিরে বালু উত্তোলনকারীরা।
এদিকে নদী থেকে বালু বহনকারী দুই একটা ট্রাক ভর্তি বালু আটক হলেও বালুখেকুরা ধরা ছোঁয়ার বাহিরে রয়ে যাচ্ছে। তাদের লাগাম ধরতে অনেকটাই ব্যর্থ প্রশাসন। এমনটাই বলছেন সচেতন মহল।
নবীগঞ্জ উপজেলার দীঘলবাক ইউনিয়নের কসবা গ্রামে কুশিয়ারা নদীর তীর কেটে বালু উত্তোলনের মহাউৎসব দেখা যায়। লাইনের লাইন ট্রাক দাঁড় করিয়ে নদী থেকে বালু তুলে ভর্তি করা হচ্ছে। আর এসব বালু বিক্রি হচ্ছে উপজেলার বিভিন্ন এলাকাসহ দেশব্যাপী। বালু উত্তোলনে কাজ করতে আসা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েকজন শ্রমিক জানান, এই এলাকার কসবা গ্রামের সুরুজ উল্লাহর পুত্র রাসেল মিয়া এবং একই গ্রামের ইরাজ উল্লাহর পুত্র সুনাম মিয়া গংরা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করাচ্ছে। অলোচনায় রয়েছে ইনাতগঞ্জ ইউনিয়ন তহসিল অফিসের যোগসাজেসের বিষয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ তহসিল অফিসের জনৈক ব্যাক্তিদের বড় অংকের টাকা দেওয়া হচ্ছে। স্বল্প ব্যয়ে বালু উত্তোলন করে তারা ব্যাপক কালো টাকা মালিক হচ্ছে। তবে তাদের খুঁটির জোর কোথায়? প্রশ্নটি ঘুরপাক খাচ্ছে স্থানীয়দের মধ্যে। বিষয়টি নিয়ে রাসেল ও সুনামের সাথে সাংবাদিকরা কথা বলতে চাইলে তারা কোনো ধরণের কথা বলতে রাজি হননি। তবে একাধিকবার সংবাদ প্রকাশ হলেও চোখে পড়ার মত কোনো অভিযান নেই। সংবাদে বালুখেকুদের নামও প্রকাশ পাচ্ছে।
এব্যাপারে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ মহিউদ্দিন আহমেদ বলছেন প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বালু উত্তোলনকারীদের নাম প্রকাশ করে প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে সাংবাদিকদের অনুরোধ করেন তিনি।
একুশেসংবাদ/অমৃ
আপনার মতামত লিখুন :