নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের পশ্চিম বাজার জামে মসজিদের বর্তমান নাম (সালেহা জামে মসজিদ) লন্ডন প্রবাসীর নাম ফলক লাগিয়ে ১৯৮৮ সাল থেকে লক্ষ,লক্ষ টাকার বাণিজ্য করছে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান গংরা অভিযোগ আসল ভূমিদাতা পরিবারের। মসজিদের উন্নয়নের টাকাসহ অন্যান্য আয়ের টাকা যায় কার পকেটে? এমন প্রশ্ন এলাকাবাসীর।
লাখ টাকার বিনিময়ে মসজিদের নাম ফলক থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে প্রকৃত ভূমিদাতাদের নাম। এনিয়ে একাধিক মামলা মকদ্দমা করেছেন এই মসজিদের ভূমিদাতা পরিবারের সদস্যরা।
এলাকার স্থানীয় গণ্যমান্য মুরব্বিদের নিয়ে সালিশ বৈঠক হয়েছে একাধিক। তবে সালিশের রায় মানছে না আমিনুর রহমান গংরা খোঁজ নিয়ে জানা যায় এই সালিশ বৈঠকের রায় বাস্তবায়নের দায়িত্বে ছিলেন, নবীগঞ্জ উপজেলা ইনাতগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান বজলুর রশিদ ও ফাঁড়ি পুলিশের পরিদর্শক সামছুউদ্দিন খান। এদিকে অদৃশ্য এক শক্তির কাছে পরাজিত প্রশাসনের এই কর্মকর্তা ও ইউপি চেয়ারম্যান বজলু।
আমিনুর রহমানের খুঁটির জোর ও দায়িত্বশীলদের ব্যর্থতা নিয়ে বেশ সমালোচনা হচ্ছে ইনাতগঞ্জবাসীর মধ্যে।
লন্ডন প্রবাসীর নাম লাগিয়ে মসজিদ নিয়ে বাণিজ্য ও আসল ভূমিদাতাদের অনিহা নিয়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এলাকায়। যে কোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। ইনাতগঞ্জ পশ্চিম বাজার জামে মসজিদের ভূমিদাতা পরিবারের মোঃ মোশাহিদ আলী ও তার ভাই সাংবাদিক আশাহিদ আলী আশা বলেন, স্থানীয় লন্ডন প্রবাসী সালেহা নামে এক মহিলার নামফলক ব্যবহার করে লক্ষ,লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে মসজিদ কমিটির তথাকতিথ সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান গংরা। এখানে (মসজিদ) করা হয়েছে বাণিজ্য করার জন্য নয়। মহান আল্লাহকে রাজি খুশি করার জন্য মসজিদের জন্য ভূমিদান করা হয়েছে আমাদের পরিবার থেকে। আজকে মসজিদের নাম ভাঙিয়ে যারা বাণিজ্য করছে তাদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিতে আইনের সহায়তা চাচ্ছি।
এব্যাপারে ইনাতগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক সামছুউদ্দিন বলেন, সাংবাদিক আশাহিদ আলী আশা ও তার পরিবার এই মসজিদের আসল ভূমিদাতা। আমরা একটি সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে মসজিদ নিয়ে যে সমস্যা চলছে সেটি মিমাংসা করার চেষ্টা করছি। আশাহিদ আলী আশা ও তার পরিবারের নামে নামফলক হবে সেটিও সিদ্ধান্ত নিয়েছি। রায় হলেও বিষয়টি বাস্তবায়ন হচ্ছে না কেন? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান রায় বাস্তবায়নে কাজ করছেন। ইনাতগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান বজলুর রশিদ বলেন, আমরা চেষ্টা করছি সমাধান করার জন্য। বার বার বসে ও সমাধান হচ্ছে না। আশাহিদ আলী আশা ও তার পরিবার ভূমিদাতা হলে ও রায় বাস্তবায়ন হচ্ছে না কেন? জানতে চাইলে ইউপি চেয়ারম্যান বজলুর রশিদ বলেন, আমিনুর রহমান তার ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে আমাদের মানছে না। এজন্য তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে ভূমিদাতা পরিবারকে সহযোগিতা করা হবে।
এলাকাবাসী বলছেন ইনাতগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক সামছুউদ্দিন ও ইউপি চেয়ারম্যান বজলুর রশিদ একের পর এক অজুহাত দেখিয়ে আমিনুর রহমানের সাথে যোগসাজেশ রেখে কাজ করছেন।
একুশে সংবাদ/আ
আপনার মতামত লিখুন :