নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল পৌর এলাকার বিজেএমসি নিয়ন্ত্রণাধীন বাংলাদেশ জুট মিলের ২৩শ বদলী শ্রমিকের ১৪ কোটি টাকা মিল বন্ধের ৯ মাস পার হয়ে গেলও এখনো পর্যন্ত তাদের টাকা পরিশোধ করেনি মিল কর্তৃপক্ষ।এসব শ্রমিকরা তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
মিল বন্ধের সময় বলা হয়েছিল দুই মাসের মধ্যে চাকরি হারানো শ্রমিকদের সকল দেনা-পাওনা মজুরি কমিশন-২০১৫ অনুযায়ী ৫০ শতাংশ তাদের ব্যাংক হিসাবে এবং বাকী ৫০ শতাংশ সঞ্চয়পত্র আকারে পরিশোধ করা হবে। তাছাড়া অচিরেই মিল সংস্কার করে রাষ্ট্রায়ত্ত সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে চালু করা হবে।
মিল বন্ধের ৯ মাস পার হয়ে গেলেও স্থায়ী শ্রমিকদের শুধু ৫০ শতাংশ টাকা তাদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসেবে পরিশোধ করা হলেও বাকী ৫০ শতাংশ সঞ্চয়পত্র এখনো পরিশোধ করা হয়নি। এদিকে ২৩ শ বদলী শ্রমিকদের এখনো পর্যন্ত কোন টাকা পরিশোধ কনেনি মিল কর্তৃপক্ষ। ফলে চরম হতাশার মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছে মিলের বদলীকৃত চাকরিহারা ২৩শ শ্রমিক।
মিলের চাকরিহারা বদলী শ্রমিক আবুল কালাম বলেন, মিল বন্ধের ৯ মাস চললেও এখনো পর্ষন্ত আমরা কোন টাকা পাইনি। আদো পাবো কিনা তাও জানিনা। পরিবার পরিজন নিয়ে কত কষ্টে আছি তা আল্লাহই বলতে পারবে।
অপর বদলী শ্রমিক নিতাই বলেন, মিল বন্ধের সময় বলা হয়েছিল আগস্ট মাসের মধ্যে এককালীন সকল বকেয়া পাওনা পরিশোধ করা হবে। এখন মিল কর্তৃপক্ষের কোনো খবর নেই। কথা বলার জন্যও মিলের কোনো কর্মকর্তাকে পাওয়া যায় না। স্ত্রী আর ছেলে-মেয়ে নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছি। কোন কাজ না পেয়ে এখন একটি সেলুনে কাজ করে অতি কষ্টে দিন পার করছি।
আরেক বদলী শ্রমিক আবুল খায়ের বলেন, স্ত্রী, দুই মেয়ে ও দুই ছেলে নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটছে। কোনো কোনো দিন উপোষও থাকা লাগে। মিল কর্তৃপক্ষ আমার বকেয়া পাওনা পরিশোধ করলে এই বৃদ্ধ বয়সে একটু শান্তিতে থাকতে পারতাম। এখন ভ্যান-রিকশা চালিয়ে সংসার চালাচ্ছি। এভাবে থাকলে ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়াও বন্ধ হয়ে যাবে।
মিলের সিবিএ সাধারন সম্পাদক আখতারুজ্জামান হতাশার সুরে বলেন, স্থায়ী শ্রমিকদের পাওনা টাকার ৫০ শতাংশ টাকা পেলেও বাকী ৫০ শতাংশ টাকা কবে দিবে তা অনিশ্চিত। এদিকে বদলী ২৩শ শ্রমিকের বকেয়া টাকারও কোনো খবর নেই। তবে আমরা বকেয়া টাকার দাবীতে শ্রীঘ্রই মানববন্ধন করবো।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ জুট মিলের প্রকল্প প্রধান ইঞ্জিনিয়ার মতিউর রহমান মন্ডল জানান, মিলের ২৩শ বদলী শ্রমিকের মোট পাওনা বকেয়া ১৪ কোটি টাকা। আমরা হিসেব করে বিজেএমসিতে পাঠিয়েছি। সরকার মিলে টাকা পাঠালেই আমরা শ্রমিকদের টাকা পরিশোধ করে দিবো। কবে নাগাদ টাকা পরিশোধ করা হবে এ ব্যাপারে তিনি কিছুই বলতে পারেননি।
উল্লেখ্য ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত নরসিংদীর পলাশের ঘোড়াশালে বিজেএমসির এ বাংলাদেশ জুট মিলটিতে স্থায়ী-অস্থায়ী মিলে প্রায় চার হাজার শ্রমিক-কর্মচারী কর্মরত ছিলেন।
একুশেসংবাদ/সাব্বির/অমৃ
আপনার মতামত লিখুন :