নরসিংদীতে চূড়ান্ত পাওনা পরিশোধসহ ১০ দফা দাবিতে দ্বিতীয় দফায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন ইউএমসি জুট মিলের অস্থায়ী শ্রমিকেরা।
আজ সোমবার সকাল ১০টা থেকে শহরের নাগরিয়াকান্দিতে পাটকলটির মূল ফটকের সামনে শতাধিক অস্থায়ী শ্রমিক এ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
অস্থায়ী শ্রমিক ও সিবিআই নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অব্যাহত লোকসানের কারণে গত বছরের ৭ জুলাই ইউএমসি জুট মিলসহ দেশের সব রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। তখন স্থায়ী ও অস্থায়ী সব শ্রমিকের বকেয়া বেতনসহ যাবতীয় পাওনা গত বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যে পরিশোধের প্রতিশ্রতি দেওয়া হয়। ইউএমসি জুট মিলে প্রায় তিন হাজার স্থায়ী ও প্রায় তিন হাজার অস্থায়ী শ্রমিক কর্মরত ছিলেন।
স্থায়ী শ্রমিকদের চূড়ান্ত পাওনা মোট ৩০০ কোটি টাকার মধ্যে ১৬০ কোটি টাকা ব্যাংকের মাধ্যমে এবং ১৪০ কোটি টাকা সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে ইতিমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে। কিন্তু নানা আশ্বাস দেওয়ার পরও পাটকলটির অস্থায়ী শ্রমিকদের চূড়ান্ত পাওনা ২১ কোটি ১৭ লাখ টাকা এখনো পরিশোধ করা হয়নি।
অস্থায়ী শ্রমিকদের ১০ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় পুনরায় চালু, অস্থায়ী বা বদলি শ্রমিকদের এরিয়ার বিল প্রদান, পাঁচ সপ্তাহের বকেয়া বিল পরিশোধ, বিভিন্ন পাওনা পরিশোধ, মৃত শ্রমিকদের মৃত দাবি বিল পরিশোধ, মামলা করা শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ, শ্রমিকদের চূড়ান্ত হিসাব প্রদান, গত বছরের ১ জুলাইয়ে অবসর নেওয়া শ্রমিকদের চিঠি বা সার্ভিস বই প্রদান, মহার্ঘ্য ভাতার বকেয়া বিল প্রদান ও অ্যাফিডেভিট করে সোনালী ব্যাংকের সঞ্চয়পত্র ফরম পূরণ করা শ্রমিকদের টাকা পরিশোধ করা।
অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন ইউএমসি জুট মিলের সিবিএ সভাপতি শফিকুল ইসলাম মোল্লা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাউসার আহমেদ, সাবেক প্রচার সম্পাদক দেলোয়ার হোসেনসহ পাটকলটির অন্তত ১০ অস্থায়ী শ্রমিক।
এ সময় তাঁরা বলেন, স্থায়ী শ্রমিকদের চূড়ান্ত পাওনার টাকা ইতিমধ্যে পরিশোধ করা হলেও অস্থায়ী শ্রমিকদের চূড়ান্ত পাওনা ২১ কোটি ১৭ লাখ টাকা এখনো পরিশোধ করা হয়নি।
পাটকলটিতে ১০ থেকে ২৫ বছর ধরে কাজ করেছেন আজকের অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শতাধিক অস্থায়ী বা বদলি শ্রমিক। পাটকল স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁরা বেকার হয়ে পড়েছেন এবং পাওনা টাকা না পেয়ে তাঁরা সবাই এখন পরিবার নিয়ে বিপাকে আছেন। অথচ কর্মকর্তারা ঠিকই বেতন পাচ্ছেন আর শ্রমিকেরা কাজ হারিয়ে না খেয়ে থাকার মতো অবস্থা হয়েছে। দ্রত অস্থায়ী শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের তাগিদ দেওয়া হয় ওই অবস্থান কর্মসূচি থেকে।
শফিকুল ইসলাম মোল্লা বলেন, মিল বন্ধ ঘোষণার পর বেকার হওয়া জুট মিলের অস্থায়ী বা বদলি এসব শ্রমিকেরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তাঁদের চূড়ান্ত পাওনা পরিশোধসহ ১০ দফা দাবিতে আজ দ্বিতীয় দফায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন এসব অস্থায়ী শ্রমিকেরা। অবিলম্বে তাঁদের চূড়ান্ত পাওনা টাকা পরিশোধ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এ বিষয়ে ইউএমসি জুট মিলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘স্থায়ী শ্রমিকদের পাওনা টাকা পরিশোধ করা গেলেও অস্থায়ী বা বদলি শ্রমিকদের পাওনা টাকা এখনো পরিশোধ করা যায়নি। তাঁদের পাওনা পরিশোধের ব্যাপারে আমরা সরকারের কাছে আবেদন করেছি। অনুমোদন হয়ে এলেই তাঁদের সব পাওনা পরিশোধ করা হবে।’
জিএম শাহাদাত হোসেন আরও বলেন, ‘শুধু আমাদের নয়, দেশের মোট ২৫টি পাটকলের অস্থায়ী শ্রমিকদের পাওনা টাকা আটকে আছে। মন্ত্রণালয় থেকে পাওনা টাকা পাওয়ার ব্যাপারে কোনো নোটিশ বা চিঠি আমরা এখনো পাইনি।’
একুশে সংবাদ/ সাইরু/ এস
আপনার মতামত লিখুন :