ঢাকা মঙ্গলবার, ১৬ মার্চ, ২০২১, ২ চৈত্র ১৪২৭

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
Janata Bank
Rupalibank

ফরিদপুরের কৈজুরীতে জমি নিয়ে বিরোধ, আহত ৩


Ekushey Sangbad
ফরিদপুর প্রতিনিধি
০৭:২২ পিএম, ১৫ মার্চ, ২০২১
ফরিদপুরের কৈজুরীতে জমি নিয়ে বিরোধ, আহত ৩

ফরিদপুর সদরের কৈজুরী ইউনিয়নের জমি নিয়ে বিরোধে একই পরিবারে তিন জন আহত হয়েছে। এর মধ্যে গুরুত্বর অবস্থায় একজনকে ফরিদপুর মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ বিষয়ে ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

রবিবার দুপুরে পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে ভাই, বোন ও তার স্বামীর সাথে বিরোধে জরিয়ে পরে নিজেরা। বিরোধের এক পর্যায়ে বোন ও তার স্বামী তাদের ভাই ও পিতার উপর হামলা চালালে আহত হয় তিন জন।

জানা যায়, কৈজুরী ইউনিয়নের আলালপুর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ ইয়াদ আলী (৮০)। তার এক পুত্র ও ৩ কন্যা যার মধ্যে এক কন্যা মারা গেছেন। এক পুত্র মোঃ মজিবর রহমান ও দুই কন্যা শিউলী ও আমেনা। ইয়াদ আলীর কন্যা শিউলি ও আমেনা তার পিতা বয়বৃদ্ধ হবার সুযোগ নিয়ে তার কাছ থেকে জোর পূর্বক সকল সম্পত্তি লিখিয়ে নেন যা ওয়ারিশ স্বত্বে পাওয়া সম্পত্তির অধিক। শিউলী ও তার স্বামী নাছির তার পিতার কাছ থেকে জোর পূর্বক এ সম্পত্তি লিখিয়ে নেন বলে দাবী করছেন ইয়াদ আলী। যার একটি দেওয়ানী মামালা চলমান রয়েছে যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালতে। 

এই মামলা তুলে নেবার জন্যই বার বার নাছির ও তার বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে ইয়াদ আলী ও তার পুত্র মজিবর রহমানকে হুমকি ধামকি দিয়ে আসছে। আর মজিবর প্রান ভয়ে বার বার পুলিশের কাছে গিয়ে অভিযোগ লিখিয়ে আসে আর নাছির আরো দ্বিগুন শক্তি নিয়ে তাদের পরিবারের ওপর নির্যাতনের হলি খেলে।

ভুক্তভোগী মজিবর রহমান বলেন, আমরা দীর্ঘ দিন ধরে নাছির ও শিউলরি অত্যাচার সহ্য করছি। নাছির আমার পিতা ইয়াদ আলী কাছ থেকে জোর করে তার সকল সম্পত্তি লিখিয়ে নেয় পরে আমার পিতা একটি দেওয়ানী মামলা করলে আমাদের উপর শুরু হয় তাদের অত্যাচার।

তিনি বলেন, আমার পিতা-মাতা তাদের মেয়ে শিউলীর বাড়িতে দীর্ঘদিন ছিলেন। শিউলী তাদের দেখাশুনা করত। সেই সুযোগে শিউলীর স্বামী নাছির তাদের কাছ থেকে না না ভয় ভীতি ও অযুহাতে আস্তে আস্তে সকল সম্পত্তি লিখিয়ে নিতে থাকে। এ পর্যায়ে এসব বিষয় জানাজানি হলে আমার মাকে তারা তারিয়ে দেয়। পরে মা সে শোক কাটিয়ে উঠতে না পেরে স্টক করে মারা যান। নাছির আমার পিতাকে এসময় আর একটা বিয়ে করিয়ে তার মন জয় করার চেষ্টা করে। পরে নাছির বাকি সম্পত্তি লিখে নিয়ে আমার পিতা ও তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে তারিয়ে দেন। আমার পিতা তখন আমার কাছে আসে ও সকল ঘটনা খুলে বলে। পরে বাবা একটি দেওয়ানী মামলা দায়ের করে। এই মামলা করার পর থেইে মামলা তুলে নেবার জন্য নানা ভাবে হুমকী, বাড়িতে এতে অত্যাচার করে নাছির।

তিনি বলেন, আমার পিতা এ শোকে বিছানায় পরে গেছে। এতমাবস্থায় রবিবার দুপুরে নাছির, শিউলী ও আমার আরেক বোন আমেনা বাড়িতে আসে আমার পিতাকে তুলে নিয়ে যাবে কোর্টে এবং আমার বাবাকে দিয়ে মামলা উঠিয়ে নিবে। আমার পিতা মৃত্যু সজ্জায় বিছানায় কাতরাচ্ছে। তা দেখেও তারা আমার বাবাকে ঘর থেকে টেনে হিচড়ে বের করে কোর্টে নিয়ে যেতে গেলে আমার পরিবার বাধা দেয়। এসময় নাছির শিউলী ও আমেনাসহ তাদের সাথে থাকা সহযোগীরা আমার স্ত্রী নিলুফার ইয়াসমিন, আমার পুত সেক রাতুল ও কন্যা মিমকে তারা বেধরক মারধোর করে। এসময় তাদের চিৎকারে গ্রামবাসী এগিয়ে আসলে নাছির শিউলী ও আমেনারা পালিয়ে যায়। আমি পরিবারের সংবাদে বাড়িতে আসলে আমাকে সকল ঘটনা খুলে বলে। এদিকে আমি বাড়ি ফেরার আগেই আমার স্ত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত নাছির বলেন, আমি তো গতকাল ফরিদপুরে ছিলাম না। আমি তাদের বাড়িতে যাব কিভাবে। গতকাল কোন মারামারির ঘটনা ঘটে নাই। তারা মিথ্যা কথা বলতেছে। আমার স্ত্রীর সাথে কথাকাটি হয়েছে।
 
কোতয়ালী থানার এএসআই মোস্তাক বলেন, এ বিষয়ে কোতয়ালী থানায় একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত চলছে।

একুশে সংবাদ / রা. হ / এস