শনিবার ০৩ অক্টোবার ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বঙ্গাব্দ
শিক্ষা

শিশুদের ঝগড়ায় অভিভাবকদের প্রতি প্রত্যাশায়!

শিশুদের ঝগড়ায় অভিভাবকদের প্রতি প্রত্যাশায়

 

খোরশেদ আলম: ছেলেমেয়েরা একসঙ্গে পড়বে, খেলবে, চলাফেরা করবে- তাই তাদের মধ্যে ছোটখাটো ঝগড়া-বিবাদ হতেই পারে। আজ যারা ঝগড়া করছে, কাল তারাই হয়তো আবার বন্ধুত্বের বন্ধনে জড়িয়ে যাবে। তাই শিশুদের সামান্য বিরোধকে বড়দের অহংকার, রাগ কিংবা প্রতিশোধের বিষয়ে পরিণত করা কোনোভাবেই উচিত নয়।

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের রাজদিয়া অভয় পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজে একজন অভিভাবক শ্রেণিকক্ষে ঢুকে অন্য এক শিশুকে আঘাত করার যে ঘটনা ঘটেছে, তা আমাদের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক ও সতর্কবার্তামূলক। সন্তানকে ভালোবাসা স্বাভাবিক; কিন্তু নিজের সন্তানের প্রতি ভালোবাসা যেন অন্যের সন্তানের প্রতি নিষ্ঠুরতার কারণ না হয়। অন্যের সন্তানটিও কারও আদরের সন্তান- এই বোধটুকুই একজন সচেতন অভিভাবকের প্রথম শিক্ষা।

শিশুদের মধ্যে কোনো সমস্যা হলে প্রথম দায়িত্ব হলো তাদের নিজেদের মধ্যে শান্তিপূর্ণভাবে বিষয়টি মীমাংসার সুযোগ দেওয়া। প্রয়োজন হলে শিক্ষক, শ্রেণিশিক্ষক বা অভিভাবকরা ধৈর্য ও ভালোবাসার সঙ্গে বিষয়টি সমাধান করবেন। কারণ কোনো অভিভাবক রাগের বশে হস্তক্ষেপ করলে তার নিজের সন্তানটিও ভবিষ্যতে সহপাঠীদের কাছ থেকে দূরে সরে যেতে পারে, একাকীত্বে ভুগতে পারে এবং সামাজিকভাবে বিব্রত হতে পারে।

এ প্রসঙ্গে গতকাল পূর্ব বাসাবোর একটি ছোট্ট ঘটনার কথা উল্লেখ করা যায়। কয়েকজন স্কুলছাত্রের মধ্যে সামান্য মারামারি নিয়ে একজন বড় ভাই ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। সেখানে উপস্থিত থেকে আমি নিজে বিষয়টি শুনে বুঝিয়ে বলার পর তিনি ভদ্রতার সহিত শান্তভাবে চলে যান। কথার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হওয়ায় কাউকে শাস্তি বা অপমানের শিকার হতে হয়নি। এটাই হতে পারে বড়দের দায়িত্বশীলতার একটি সুন্দর দৃষ্টান্ত!

তাই সবার প্রতি প্রত্যাশা থাকবে,

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে: বন্ধুত্ব রক্ষা করো, ভুল হলে ক্ষমা চাও, অন্যের ভুল ক্ষমা করতে শেখো।

শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে: শ্রেণিকক্ষকে নিরাপদ, মানবিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ রাখুন; শিশুদের বিরোধে ধৈর্যশীল মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করুন।

অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে: সন্তানের পাশে থাকুন, কিন্তু সন্তানের হয়ে প্রতিশোধ নিতে যাবেন না। আগে শুনুন, বুঝুন, তারপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন।

সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে: শিশুদের সামান্য বিরোধকে উত্তেজিত না করে শান্ত করার চেষ্টা করুন।

প্রশাসনের প্রতি প্রত্যাশা: শিশুদের ওপর শারীরিক আঘাত বা বিদ্যালয়ের নিরাপদ পরিবেশ নষ্ট করার মতো ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করুন, যাতে ভবিষ্যতে কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সাহস না পায়।

সবশেষে মনে রাখা দরকার- বাবা-মা হলেই শুধু ভালো অভিভাবক হওয়া যায় না; ভালো অভিভাবক হতে হলে ধৈর্য, মানবিকতা, পারিবারিক মূল্যবোধ, নৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার প্রয়োজন।

শিশুদের আমরা যে আচরণ শেখাব, আগামী দিনের সমাজও অনেকটা তেমনই হবে। তাই আসুন- শিশুর ঝগড়ায় বড়রা যুদ্ধ নয়, সমাধানের পথ দেখাই। শাস্তির আগে শিক্ষা, রাগের আগে বিবেক এবং প্রতিশোধের আগে মানবিকতাকে স্থান দিই।


লেখক: মোহাঃ খোরশেদ আলম
নির্বাহী পরিচালক, হিউম্যানরাইটস এন্ড এনভায়রমন্ট ডেভো. সোসাইটি(হিডস)

 

আরও খবর

news image

শিশুদের ঝগড়ায় অভিভাবকদের প্রতি প্রত্যাশায়!

news image

জিয়া-খালেদা শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদ কর্তৃক আয়োজিত বার্ষিক সাধারণ সভা

news image

শতভাগ মূল বেতন এক ধাপেই বাস্তবায়ন করে ২২ লাখ পরিবারের মুখে হাসি ফুটান

news image

প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি আবুল কাসেমসহ বাকি ৪ জন বদলীকৃত শিক্ষককে পূণঃ বহাল করুন

news image

🇧🇩 শহীদ জিয়ার ১৯ দফা: নতুন প্রজন্মের ভাবনা 🇧🇩 বইটি, বাংলাদেশের উন্নয়ন, গণতন্ত্র, সুশাসন ও আত্মনির্ভরতার এক অন্যন্য দলিল

news image

নীতিনির্ভর সামাজিক রূপান্তর ও স্বাস্থ্যখাত সংস্কারে দুই প্রস্তাবনা নিয়ে ইনসাইট ফর চেঞ্জ ফাউন্ডেশন (ICF)-এর আত্মপ্রকাশ

news image

নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভূক্তকরণের দাবিতে সম্মিলিত নন-এমপিও ঐক্য পরিষদের মানববন্ধন

news image

সরকার কর্তৃক ১২ দফা শিক্ষা সংস্কার এজেন্ডার প্রেক্ষিতে গণসাক্ষরতা অভিযানের প্রস্তাবনা

news image

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) রসায়ন বিভাগে নতুন চেয়ারম্যান হলেন অধ্যাপক ড. মো. আমিনুল হক

news image

প্রকাশক ঐক্যের মূল ভিত্তি শতভাগ ন্যায্যতার প্রশ্ন: সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশকরা

news image

রমজানের প্রথম দিন থেকে বন্ধ থাকবে স্কুল: শিক্ষা মন্ত্রণালয়