সাইফুল আলম, বিশেষ প্রতিনিধি ০১ মার্চ ২০২৬ ১১:০৭ এ.এম
সাইফুল আলম, ঢাকা: বর্তমান সরকারের ঘোষিত ১২ দফা শিক্ষা সংস্কার এজেন্ডার প্রেক্ষিতে বেসরকারি শিক্ষা পরিবারের পক্ষ থেকে সুসংগঠিত প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেছে গণসাক্ষরতা অভিযান। আজ শনিবার ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সকাল ১১টায় ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাব-এর জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। কর্মসূচিটি আয়োজন করে গণসাক্ষরতা অভিযান এবং সহযোগিতায় ছিল এডুকেশন ওয়াচ।
অনুষ্ঠানে মূল প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধূরী। উক্ত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিরেটারস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমদ, এডুকেশন ওয়াচ এর আহবায়ক ড. আহমদ মোশতাক রাজা চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট এর অধ্যাপক শাহ শামীম আহমেদ এবং বাংলাদেশ ক্যাথলিক এডুকেশন বোর্ড এর সাধারণ সম্পাদক জ্যোতি এফ গমেজ, গণসাক্ষরতা অভিযানের উপ-পরিচালক তপন কুমার দাশ এবং উপ-পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান।
গণসাক্ষরতা অভিযানের প্রস্তাবনায় শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করা এবং তা বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। ঝরে পড়া, বাল্যবিবাহের শিকার, প্রতিবন্ধী, আদিবাসী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিশুদের শিক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়। উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ই-প্রোকিউরমেন্ট ব্যবস্থার কার্যকর প্রয়োগ, মনিটরিং জোরদার এবং ব্যয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়। মিড-ডে মিল কর্মসূচিতে স্থানীয় কৃষকদের সম্পৃক্ত করা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ও স্যানিটারি ন্যাপকিন সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রস্তাবও তুলে ধরা হয়।
‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচির ক্ষেত্রে শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রযুক্তির রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। বহুভাষিক বাংলাদেশের বাস্তবতায় বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় ভাষা শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি, তবে তা অষ্টম শ্রেণি থেকে শুরু করার সুপারিশ করা হয়। এছাড়া উপজেলা পর্যায়ে ইনোভেশন স্পেস ও রোবোটিক্স কর্নার স্থাপন, খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করা, পরীক্ষা পদ্ধতিতে ধারাবাহিক মূল্যায়ন চালু, সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে বাধ্যতামূলক নিবন্ধনের আওতায় আনা এবং একটি সমন্বিত শিক্ষা আইন প্রণয়নের দাবি জানানো হয়।
উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি, গবেষণা তথ্যভিত্তিক ডাটা ব্যাংক গঠন এবং শিক্ষা খাতে অর্থ সংস্থানের জন্য কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (CSR) তহবিল ও এডুকেশন সেস (সারচার্জ) চালুর বিষয়টিও বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি শিক্ষা খাতে দুর্নীতি ও অপচয় রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বক্তারা বলেন, শিক্ষা নিয়ে কোনো রাজনীতি চলতে পারে না; শিক্ষা হবে মানবসম্পদ উন্নয়ন ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের প্রধান ভিত্তি। অংশগ্রহণমূলক পরিকল্পনা, সুস্পষ্ট কৌশল ও যথাযথ বিনিয়োগ নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশকে একটি সাম্যভিত্তিক ও জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্রে উন্নীত করা সম্ভব।
প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি আবুল কাসেমসহ বাকি ৪ জন বদলীকৃত শিক্ষককে পূণঃ বহাল করুন
🇧🇩 শহীদ জিয়ার ১৯ দফা: নতুন প্রজন্মের ভাবনা 🇧🇩 বইটি, বাংলাদেশের উন্নয়ন, গণতন্ত্র, সুশাসন ও আত্মনির্ভরতার এক অন্যন্য দলিল
নীতিনির্ভর সামাজিক রূপান্তর ও স্বাস্থ্যখাত সংস্কারে দুই প্রস্তাবনা নিয়ে ইনসাইট ফর চেঞ্জ ফাউন্ডেশন (ICF)-এর আত্মপ্রকাশ
নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভূক্তকরণের দাবিতে সম্মিলিত নন-এমপিও ঐক্য পরিষদের মানববন্ধন
সরকার কর্তৃক ১২ দফা শিক্ষা সংস্কার এজেন্ডার প্রেক্ষিতে গণসাক্ষরতা অভিযানের প্রস্তাবনা
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) রসায়ন বিভাগে নতুন চেয়ারম্যান হলেন অধ্যাপক ড. মো. আমিনুল হক
প্রকাশক ঐক্যের মূল ভিত্তি শতভাগ ন্যায্যতার প্রশ্ন: সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশকরা
রমজানের প্রথম দিন থেকে বন্ধ থাকবে স্কুল: শিক্ষা মন্ত্রণালয়