বুধবার ২৪ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বঙ্গাব্দ
জাতীয়

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি: সার্বভৌম সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মানই হোক নতুন বাস্তবতা

খোরশেদ আলম, মুক্তসংবাদ প্রতিদিন ২৩ জুন ২০২৬ ০৬:৩০ পি.এম

চীনা-বাংলাদেশের পতাকা

মোহা: খোরশেদ আলম: সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর চীন সফরকে কেন্দ্র করে ভারতের কিছু গণমাধ্যমে নানা ধরনের মন্তব্য ও বিশ্লেষণ প্রকাশিত হয়েছে। এসব প্রতিবেদনের একটি অংশে এমন ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে যে, বাংলাদেশের প্রথম বিদেশ সফরের গন্তব্য হিসেবে চীনকে বেছে নেওয়া নাকি ভারতের প্রতি কোনো বিশেষ বার্তা বহন করে। এ ধরনের ব্যাখ্যা কেবল কূটনৈতিক বাস্তবতাকেই সরলীকৃত করে না, বরং একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকারকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বর্তমান বাস্তবতায় কোনো রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি আর একমুখী নয়। বিশ্বায়ন, অর্থনৈতিক আন্তঃনির্ভরতা, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রশ্নে প্রতিটি দেশই বহুমাত্রিক কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে সচেষ্ট। বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম নয়। স্বাধীনতার পর থেকেই দেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি ছিল জাতীয় স্বার্থ, পারস্পরিক সম্মান এবং সবার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা। সেই নীতির আলোকে বাংলাদেশ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করবে—এটাই স্বাভাবিক।

দুঃখজনকভাবে, ভারতের কিছু গণমাধ্যম ও বিশ্লেষকের বক্তব্যে এখনো সেই পুরোনো ‘বড় ভাই’ মানসিকতার প্রতিফলন দেখা যায়, যেখানে প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতিটি কূটনৈতিক পদক্ষেপকে ভারতের দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করার প্রবণতা লক্ষ করা যায়। অথচ দক্ষিণ এশিয়ার বর্তমান বাস্তবতা বদলে গেছে। আজকের বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সক্ষমতা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রম এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও আত্মবিশ্বাসী রাষ্ট্র। ফলে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সিদ্ধান্তও তার নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ ও কৌশলগত অগ্রাধিকারের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে।

একটি দেশের নেতা কখন, কোথায় এবং কেন সফর করবেন, তা সেই দেশের সরকারের নিজস্ব বিষয়। এ নিয়ে গঠনমূলক বিশ্লেষণ অবশ্যই হতে পারে, কিন্তু সেটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিতর্কে রূপ দেওয়া বা প্রতিবেশী দেশের স্বাধীন সিদ্ধান্তকে সন্দেহের চোখে দেখা সুস্থ কূটনৈতিক সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক ইতিহাস, ভৌগোলিক বাস্তবতা এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগের ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ। এই সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে হলে পারস্পরিক সম্মান, সমমর্যাদা এবং একে অপরের সার্বভৌম সিদ্ধান্তকে স্বীকৃতি দেওয়ার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। কারণ আধুনিক বিশ্বে প্রকৃত বন্ধুত্ব দাদাগিরির ওপর নয়, বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও স্বার্থের ভারসাম্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ আজ একটি আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র। সে কারণে তার কূটনৈতিক পদক্ষেপকে আনুগত্যের মাপকাঠিতে নয়, বরং একটি স্বাধীন দেশের স্বাভাবিক ও বৈধ সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখাই হবে পরিণত আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয়।

আরও খবর

news image

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি: সার্বভৌম সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মানই হোক নতুন বাস্তবতা

news image

আজ প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির সভা

news image

নদী বাঁচলে বাঁচবে এ দেশের কৃষি, সংস্কৃতি ও অর্থনীতি- শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি

news image

প্রধানমন্ত্রী রামিসার বাসায় যাচ্ছেন

news image

১ জুলাই থেকেই পে-স্কেল বাস্তবায়নের নীতিগত সিদ্ধান্ত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

news image

আজ ট্রেনে আগাম ঈদের টিকিট বিক্রি শুরু

news image

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ চাঁদপুরে যাচ্ছেন

news image

অব্যবহৃত ৬ শিশু হাসপাতাল দ্রুত চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর: বাসস

news image

শিক্ষা খাতে শুধু ‘হাই জাম্প’ নয়, ‘মোর মোর জাম্প’ দিতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী